ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির হেনরি আইল্যান্ডে এক মহিলার পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ থাকার পর বালির নীচে চাপা দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হয় ওই মহিলার দেহ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যিনি মৃতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার নাম রাবিয়া ফকির। তাঁর বাড়ি জয়নগর এলাকায়। গত ২৬ মে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনও সন্ধান না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সময় পুলিশের নজরে আসে জহিরুল সর্দার নামে এক ব্যক্তির নাম। মৃতার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ এবং মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে জহিরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরার মুখে অভিযুক্ত ভেঙে পড়ে এবং খুনের কথা স্বীকার করে।
পলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাবিয়াকে নিয়ে বকখালির হেনরি আইল্যান্ড এলাকায় যায় জহিরুল। সেখানে দু’জনের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে তীব্র বচসা বাধে। এরপরই রাবিয়াকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। খুনের পর দেহ লুকিয়ে ফেলতে হেনরি আইল্যান্ডের জঙ্গলের মধ্যে একটি নির্জন স্থানে বালির নীচে পুঁতে দেওয়া হয়। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। পরে বালির স্তরের নীচ থেকে উদ্ধার হয় মহিলার পচাগলা দেহ। দীর্ঘদিন মাটির নীচে চাপা থাকার কারণে দেহের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। যদিও ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ বা অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মৃতার ফোনের তথ্য, অভিযুক্তের কল রেকর্ড এবং ঘটনার সময়কার গতিবিধি বিশ্লেষণ করছেন। এদিকে, এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বকখালি এবং জয়নগর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না মৃতার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীর কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ঘটনার আরও গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যাতে ঘটনার সমস্ত তথ্য সামনে আনা যায়। বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত জোরকদমে চলছে।