ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) নির্বাচনকে ঘিরে চলতে থাকা বিক্ষোভ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শেহবাজের সরকার। ইসলামাবাদের অভিযোগ, পিওকের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘ইয়েলো জার্নালিজম’-এর আশ্রয় নিয়েছে আল জাজিরা এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তবে সমালোচকদের মতে, সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ এবং পিওকের অশান্তির খবর আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়া আটকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা সামনে আসে। বিভিন্ন এলাকায় ভোট বয়কট, প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারি অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর প্রকাশ করে আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটি স্থানীয় বাসিন্দা, আন্দোলনকারী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও তুলে ধরে, যেখানে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই পাকিস্তান সরকারের তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দাবি, আল জাজিরা ইচ্ছাকৃতভাবে একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা। সরকারের অভিযোগ, প্রকৃত পরিস্থিতিকে বিকৃত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে। সেই কারণ দেখিয়েই পাকিস্তানে আল জাজিরার সম্প্রচার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশ করলেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা পাকিস্তানে নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী, সরকার বা নিরাপত্তা সংস্থার সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগে চাপ সৃষ্টি, সেন্সরশিপ এবং সম্প্রচার বন্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে। ফলে আল জাজিরার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে অনেকেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আরও একটি বড় আঘাত হিসেবেই দেখছেন।
পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ক্রমশ বাড়ছে। সেই আবহেই আল জাজিরার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সরকারের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। অনেকের মতে, দেশের অশান্তির খবরকে নিয়ন্ত্রণ করার পরিবর্তে পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরার সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে।