ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন মুলুকের ভেনেজুয়েলা দখলের প্রকৃত কারণ দুনিয়ার সামনে প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি তার নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “ভেনেজুয়েলার অন্তরবর্তী কতৃপক্ষ ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল উচ্চ মানের তেল আমেরিকাকে হস্তান্তর করবে”। প্রসঙ্গত, ভেনেজুলেয়া দখলের সময় ট্রাম্প দাবি করেছিল যে ভেনেজুয়েলা মাদক চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারনেই তা আমেরিকার জন্য শঙ্কার কারণ হয়েছিল। সেই কারন দেখিয়েই কারাকাসে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য একটি সামরিক অভিযানের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারদরে আমদানি করবে আমেরিকা। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, এই তেল সরাসরি মার্কিন বন্দরে পাঠানো হবে এবং এর বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমেরিকার হাতে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদ কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এই চুক্তির মাধ্যমে তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যপক সুবিধা পাবে আমেরিকা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় সমৃদ্ধ এই তেল বাজারমূল্যেই কেনা হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি এবং তা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের হিতের কাজেই ব্যবহার করবে আমেরিকা।
এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার উপর দীর্ঘদিন ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা দখলের আসল উদ্দেশ্য সেদেশের সংরক্ষিত প্রাকৃতিক খনিজ। সেই সমৃদ্ধ তেল নিজের আওতায় নিতেই প্রথমে রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে এবং পরে সেদেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সপরিবারে অপহরণ করা হয়।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর তেল বাজারেও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা শুরু হয়েছে, কারণ এত বড় পরিমাণ তেল সরবরাহের সম্ভাবনা বিশ্ব বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘোষণাকে ঘিরে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার প্রশ্নও উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় এই ধরনের তেল লেনদেন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প দাবী করেছেন প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুতই এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে।
