ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি ভারত-মার্কিন বানিজ্য চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করে ভেনেজুয়েলা বা অন্য উৎসের দিকে ভারতের ঝোঁক, এমন জল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে দাবি উঠেছে, ভারত ভবিষ্যতে রাশিয়ার পরিবর্তে অন্য দেশ থেকে বেশি পরিমাণে তেল কিনতে পারে। এই মন্তব্য ঘিরেই মস্কোর প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
ক্রেমলিন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। রুশ প্রশাসনের মতে, ভারত বরাবরই একাধিক দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে থাকে এবং সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা তাদের স্বাভাবিক নীতি। ফলে অন্য দেশ থেকে তেল কেনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ইঙ্গিত নয়।
রাশিয়ার বক্তব্য, ভারত-রাশিয়া জ্বালানি সহযোগিতা পারস্পরিক লাভজনক এবং দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার জেরে রাশিয়ান তেল আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ে পাওয়া গেলে ভারত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমদানি বাড়িয়েছিল। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে রাশিয়া ভারতের অন্যতম বৃহৎ তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে।
রুশ কর্মকর্তারা আরও জানান, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা ও দামের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে যে কোনও দেশই তাদের আমদানি নীতি পরিবর্তন করতে পারে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। তবে মস্কো আশা করছে, ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং উভয় দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করার প্রক্রিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ভেনেজুয়েলা বা আমেরিকা থেকে তেল কেনার সম্ভাবনা থাকলেও ভারত এখনই কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে বাজার ও কূটনৈতিক সমীকরণ বিচার করেই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তেল সরবরাহ ঘিরে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক শক্তিধারী প্রতিটি দেশ নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভারতও সেই নীতিতেই বহুমুখী জ্বালানি কৌশল বজায় রেখে এগোতে চাইছে, আর রাশিয়া চাইছে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব অটুট থাকুক বলে মত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলের।
