ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর আটলান্টিক জোট ন্যাটো-কে লক্ষ্য করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দিয়ে ন্যাটো সদস্য দেশগুলি ভীরুতার পরিচয় দিচ্ছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একাই কার্যত এই যুদ্ধের ভার বহন করছে, অথচ ন্যাটোর অন্যান্য সদস্যরা দূরে সরে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটো কার্যত শক্তিহীন এমনকি তিনি জোটটিকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলেও কটাক্ষ করেন। এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত। ইরান এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দামেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল, ন্যাটো দেশগুলি একযোগে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জলপথটি খুলে দিক। কিন্তু ইউরোপের একাধিক দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে অস্বীকার করে।
ইউরোপীয় দেশগুলির যুক্তি, এই সংঘাত মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং এতে সরাসরি জড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই অবস্থানকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছে এবং মনে করছে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে বলে খবর। বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, যার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু এই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।