ওঙ্কার ডেস্ক: জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল গাজা এবং ইজরায়েল অঞ্চলে চলমান যুদ্ধে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনার তদন্তে একজন ভারতীয় প্রাক্তন বিচারপতিকে বিশেষ মানবিক পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছে। দায়িত্ব পেয়েছেন ওড়িশা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ড. এস মুরলিধর। আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে যে তিন সদস্যের বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে, তাঁর নেতৃত্বেই সেই তদন্ত এগোবে বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধাচরণ, নির্বিচারে হামলা, দমন, নিপীড়ন, এবং মানবিক সঙ্কটের বিভিন্ন দিক গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখবে এই কমিশন। ২০২১ সালের এপ্রিলের পর থেকে যে সব ঘটনার অভিযোগ জমা হয়েছে, সেগুলিকে ভিত্তি করে ঘটনার নিরপেক্ষ দলিল, প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ সংগ্রহ করা হবে। সেই সঙ্গে লঙ্ঘনের পেছনে কারা দায়ী, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের মানবাধিকার বিরোধী আচরণ হয়েছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তুলে আনা হবে কমিশনের লক্ষ্য।
ড. মুরলিধর দীর্ঘদিন বিচারব্যবস্থায় থেকে মানবাধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক অধিকার, এবং সংবিধান সংরক্ষণ সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রায় দিয়েছেন। তাঁর নিরপেক্ষতা ও কঠোর আইনজ্ঞ হিসেবে সুনাম থাকায় তাঁকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহল। কমিশনে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন জাম্বিয়ার বিচারক ফ্লোরেন্স এবং অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ক্রিস সিডোটি। তিনজনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তদন্ত আরও ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাজা–ইজরায়েল সংঘর্ষ গত এক বছরে বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যু, অবকাঠামো ধ্বংস, খাদ্যঘাটতি এবং চিকিৎসা সঙ্কট তৈরি করেছে। মানবিক সাহায্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির পাশাপাশি বহু দেশই নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তদন্তের দাবি তুলেছিল। জাতিসংঘের এই পদক্ষেপ সেই দাবির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন পুরো বিশ্বের নজর এই তদন্ত কমিশনের কাজের উপর। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ কখনও সহজ নয়। রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক বাধা, এবং নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রায়শই এমন তদন্তকে কঠিন করে তোলে। তবুও কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন তাঁদের কাজ কেবল ঘটনা নথিভুক্ত করা নয়, বরং এমন একটি স্থির চিত্র তুলে ধরা যা ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার দিশা দেখাবে।
