ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই অভিযানের সময় একটি রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও প্রশ্ন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের বর্ণনার ভিত্তিতে এই দাবি উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের ঠিক আগে ভেনেজুয়েলার রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আচমকাই অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর ফলে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই মার্কিন বিশেষ বাহিনী দ্রুত নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করে। সংখ্যায় কম হওয়া সত্ত্বেও তারা স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রতিরোধ ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ওই নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় এক ধরনের তীব্র শব্দ বা শক্তিশালী তরঙ্গের মতো অনুভূতি হয়। সেই শব্দ শোনার পরই অনেক নিরাপত্তাকর্মীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং কয়েকজন রক্তবমিও করেন। মুহূর্তের মধ্যে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন তারা, যার ফলে কার্যত কোনও প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি একটি ‘অজানা বা রহস্যময় অস্ত্রের’ প্রভাব বলে বর্ণনা করেছেন।
যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও কোনও সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। মার্কিন প্রশাসনের তরফে এমন কোনও অস্ত্র ব্যবহারের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আধুনিক যুদ্ধকৌশলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, শক্তিশালী শব্দতরঙ্গ বা নির্দেশিত শক্তিভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তা সত্ত্বেও এই অভিযানে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তি বা অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, পাশাপাশি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নও জোরালো হয়েছে। রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহারের দাবি সত্য হলে তা ভবিষ্যতের যুদ্ধনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত এই অভিযানের প্রকৃত বিবরণ ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি, আর সেই অনিশ্চয়তাই নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে।
