ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী দিনে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্কের অবনতি হয় আর ওয়াশিংটন যদি ভারতের পক্ষ নেয় তার জন্য আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পথে ইসলামাবাদ। সূত্রের খবর, পাকিস্তানের এই কাজে মদত দিচ্ছে চিন। ইতিমধ্যে গোপন সূত্রে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরে উদ্বিগ্ন।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই নারকীয় ঘটনায় পাকিস্তানের হাত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এই হামলার জবাবে ভারতের সেনাবাহিনী গত ৭ মে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জায়গায় জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছে। সূত্রের খবর,
ভারতের অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পরমাণু শক্তিবহর বাড়াচ্ছে ইসলামাবাদ। আর এই কাজে পাকিস্তানকে সাহায্য করছে চিন। ওয়াশিংটন যদি এ বিষয়ে হাতেনাতে প্রমাণ পায় তাহলে পাকিস্তানকে পরমাণু শত্রুদেশ বলে দাগিয়ে দিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের হাতে যদি ইন্টার-কন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল আসে, তাহলে ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে শত্রু দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা ছাড়া মার্কিন প্রশাসনের সামনে দ্বিতীয় পথ খোলা থাকবে না। এক মার্কিন আধিকারিক জানান, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করতে পারে, তারা কখনই আমাদের বন্ধু হতে পারে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী ভাবে চিহ্নিত করে শত্রুদেশ? বিশ্বের যে সমস্ত দেশ মার্কিন মুলুকের পক্ষে বিপজ্জনক ও বিরোধী শক্তি বলে মনে করা হয়, তাদেরকেই শত্রুদেশ বলে চিহ্নিত করে হোয়াইট হাউস। ইতিমধ্যে রাশিয়া, চিন ও উত্তর কোরিয়াকে শত্রুদেশ বলে চিহ্নিত করে রেখেছে মার্কিন প্রশাসন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেদিক থেকে ইরানের পর এবার পাকিস্তানের উপর ট্রাম্পের ‘নজর’ পড়তে পারে।
আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ৫,৫০০ কিমির বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে। ২০২২ সালে পাকিস্তান মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শাহিন থ্রি-এর পরীক্ষা করেছিল। এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ৩২৭০০ কিমি দূরে আছড়ে পড়তে পারে। যে দূরত্বের নাগালে পড়ে ভারতের একাধিক বড় শহর। এবার মার্কিন মুলুককে নিজেদের পরমাণু অস্ত্রের নাগালে আনতে তোড়জোড় শুরু করল ইসলামাবাদ।
