ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি অনুসারে এবার থেকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো হবে না কর্মসংস্থান অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ। অর্থাৎ, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি নতুনভাবে আবেদন করবেন, তাঁদের আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত অতিরিক্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা আর থাকবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে চলতি বছরের অক্টোবর থেকে, জানাল ট্রাম্প প্রশাসন।
এই নীতি পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন ভারতীয় কর্মীরা, বিশেষত এইচ ১বি ভিসাধারীদের পরিবার যারা এইচ-৪ ভিসায় আমেরিকায় রয়েছেন। পাশাপাশি যাঁরা কর্মসংস্থান অনুমোদনের নথির বা এমপ্লোয়মেন্ট অথোরাইজেশন ডকিউমেন্টস-এর মাধ্যমে আমেরিকায় কাজ করতেন তাঁদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।। এতদিন পর্যন্ত উল্লেখ্য ভিসা নতুন করে আবেদন করলে পুরোনো ইএডি-এর মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছু সময়ের জন্য বাড়ানো হত, ফলে বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন আবেদন জমা দিলেই আর সেই সুবিধা মিলবে না, বরং আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে যে, স্বয়ংক্রিয় সম্প্রসারণ ব্যবস্থা অনেক সময় অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে এবং যাচাই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে তোলে। তাঁদের দাবি, নতুন নিয়মে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিটি আবেদন যথাযথভাবে পরীক্ষা করে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবিক দিক থেকে বহু অভিবাসী পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা হতে চলেছে। কারণ, নতুনকরে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বেশ কিছু দিন সময় লেগে যাবে। ফলে নতুন নীতিতে বহু মানুষ বৈধ অনুমতি না পেয়ে কাজ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। এতে শুধুমাত্র অভিবাসী কর্মীরা নয়, তাদের নিয়োগকর্তারাও সমস্যায় পড়বেন। যা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আমেরিকার অর্থনৈতিক দিকেও প্রভাব ফেলবে। অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনগত চ্যালেঞ্জ উঠতে পারে।
আমেরিকায় বসবাসকারী, ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ও সেখানকার কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় এইভ ১বি এবং এইচ ৪ ভিসার আওতায় কাজ করছেন, তাঁদের চাকরি এবং পারিবারিক জীবিকা দুটোই অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
