ওঙ্কার ডেস্ক: ইজরায়েল এবং আমেরিকার হামলায় নিহত হয়েছিলেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারজানি। তার মৃত্যুর পর দেশের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল গভীর উদ্বেগ। বর্তমানে দেশের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব বা নিরাপত্তা প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর-কে। কিন্তু অন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দাবী করছে এই নয়া নিরাপত্তা প্রধানও নাকি আমেরিকা-ইজরায়েলের র্যা ডারে রয়েছে। সুযোগ পেলে তাকেও খতম করবে তারা। অতীতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতেনয়াহু একাধিক বার জানিয়েছেন ইরানের শীর্ষনেতৃত্ব কেউই সুরক্ষিত নয়। তাদের টার্গেট করবে ইজরায়েল।
আলি লারিজানির মৃত্যু ঘটে সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায়, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনিই-র মৃত্যুর পর একপ্রকার তিনিই দেশের নিরাপত্তার সমস্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন করতেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রভাব দেশের নীতিনির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত। ফলে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু একটি পদ শূন্য হয়নি, বরং ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন দায়িত্ব পাওয়া মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে কঠিন সময়েই দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। তিনি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস-এর প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আইনশৃঙ্খলা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কৌশলগত পরিকল্পনায় তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী সংস্থা, যা দেশের প্রতিরক্ষা নীতি, বিদেশনীতি এবং সামরিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বর্তমানের মতো উত্তেজনাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই সংস্থার সিদ্ধান্তই দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। ফলে এই পদে নতুন নিয়োগ স্বাভাবিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ।