ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেবার দাবি তুললেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। বুধবারের হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের পরই ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুনির সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ভারত-পাকিস্থনের মধ্যস্থতা করাকেই উল্ল্যেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেবার কথা বলেন। যদিও ভারতের দাবি, পাক-ভারত যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবেই দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে হয়েছে, তাতে আমেরিকার কোনও ভূমিকা নেই।
ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির সমসাময়িক কালে কানাডায় সংঘঠিত জি-৭ সম্মেলন মাঝপথে কাটছাট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের স্ব-ঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। তার পরই এমন বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমের রাখলেন মুনির। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, “আমি পাকিস্তানকে ভালবাসি। ফিল্ড মার্শাল মুনির যুদ্ধবিরতিতে যে ভূমিকা নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য।” এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে ট্রাম্পকে জানান, “ভারত ও পাকিস্তান নিজেদের আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে, তৃতীয় কোনও পক্ষের ভূমিকা ছিল না।”
ফোনালাপের এই তথ্য সামনে আনেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। যদিও ট্রাম্প এই কথা অস্বীকার না করলেও, নিজের বক্তব্য থেকে একচুলও সরেননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার পাকিস্তানের সেনা শাসকদের ‘প্রক্সি স্টেট’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। ইতিহাস বলছে, কার্গিল যুদ্ধ থেকে শুরু করে, পুলওয়ামা আট্যাক, আর সাম্প্রতিক পেহেলগাঁও হামলা সব কটিতেই পাকিস্তান সরকারের সরাসরি মদত ছিল। এরপরও পরোক্ষভাবে পাকিস্তানকে ব্ল্যাক লাইনে আসতে দেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবারই পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব আমেরিকার সুবিধাবাদী সঙ্গী হয়েছে। বিনিময়ে পেয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণ, কূটনৈতিক প্রশ্রয়।
