ওঙ্কার ডেস্ক : ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রে ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার-বাস্টার নিক্ষেপ করার পর তেহেরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তারা প্রতিশোধ নেবে। সোমবার ইরান জানিয়ে দেয়, কাতারে মার্কিন সেনাবাহিনীর বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি আল-উদেইদতে তারা মিশাইল হামলা চালিয়েছে। এই বিমান ঘাঁটিটি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সেনাবাহিনীর বৃহত্তম কৌশলগত সম্পদ বলে মানা হত। তাদের অপারেশন বেশারত ফাতাহ-এ বিধ্বংসী এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বড়সড় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। এরপরই ইরান জানিয়ে দেয়, কোনও পরিস্থিতিতেই “তার আঞ্চলিক অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার উপর কোনও আক্রমণকে উত্তরহীন রাখবে না”।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই সফল অভিযানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে আমেরিকা যে পরিমাণ বোমা ব্যবহার করেছিল তার সমান ছিল। লক্ষ্যবস্তু ঘাঁটিটি কাতারের শহরাঞ্চল এবং আবাসিক অঞ্চল থেকেও দূরে থাকায় সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতির আশঙ্কা কম।“
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাতারে আমেরিকান ঘাঁটিতে হামলাগুলি বিপ্লবী গার্ড কর্পস দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেছেন, “আমরা আমাদের শত্রুদের সতর্ক করে দিচ্ছি যে আঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে”। এই ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন এক মার্কিন প্রতিরক্ষা আধিকারিক। তবে তিনি জানিয়েছেন, “আমি নিশ্চিত করতে পারি যে আজ ইরান থেকে আসা স্বল্প-পাল্লার এবং মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে আক্রমণ করা হয়েছে। এই মুহূর্তে, মার্কিন হতাহতের কোনও খবর নেই”।
দোহার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত, আল-উইদ বিমান ঘাঁটিতে প্রায় ১০,০০০ মার্কিন সেনা রয়েছে এবং এটি মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) অগ্রণী সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে। এই ঘাঁটিটি যুদ্ধ বিমান এবং ড্রোন সহ বিমান অভিযানগুলিকে সাহায্য করে থাকে। যা ইরাক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে অভিযানের জন্য একটি কেন্দ্র। এটি ২৪ হেক্টর (৬০ একর) জুড়ে বিস্তৃত এবং প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে।
এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলে যান সিচুয়েশন রুমে। কাতার তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিমানগুলিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর দোহা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে কাতার বলেছে, এটি এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য নেওয়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থার একটি অংশ।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে কাতার এটিকে তার সার্বভৌমত্বের “সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছে। কাতার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, “আমরা ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস কর্তৃক আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব এবং আকাশসীমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করি”।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও কাতারের সঙ্গে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। কাতারের খুব কাছের উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনও বিমান চলাচল স্থগিত করেছে। এবং কুয়েতও তাই করেছে। বাহরাইনের সরকারি সংবাদ সংস্থা একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাহরাইনের আকাশে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা করেছে পরিবহন ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়”। দোহার ভারতীয় দূতাবাস কাতারে তার নাগরিকদের জন্য একটি পরামর্শ জারি করেছে এবং বলেছে, “চলতি পরিস্থিতিতে কাতারে ভারতীরা যেন সতর্ক থাকেন এবং ঘরের বাইরে যেন না বেরোন”।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মস্কোতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন। মনে করা হচ্ছে, রাশিয়ার সমর্থন আদায়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ।
