ওঙ্কার ডেস্ক: পরমাণু হামলার হুমকি ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্ক। বুধবার সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তৃতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই স্পষ্টভাবে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর কথায়, “আমরা আমেরিকা আর তার পোষা কুকুরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত, এটাই গর্বের বিষয়।” তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদে ইরানের হামলা ছিল কেবল শুরু। তাঁর মতে, প্রয়োজনে আমেরিকা ও অন্য দেশের উপর আরও বড় হামলার ক্ষমতা ইরানের রয়েছে।
সমসাময়িক পরিস্থিতিতে পশ্চিমি দেশ গুলি তেহরানকে পারমাণবিক আলোচনায় বসার জন্য চাপ দিচ্ছে সেই সময় খামেনিইর এই হুমকি বেশ আলোড়ন ফেলেছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে। একই সঙ্গে ফের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি ইজরায়েল ইরানের একাধিক পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ফরদো পারমাণবিক কেন্দ্রেও বড়সড় ক্ষতি হয়েছে। তবে এই হামলায় ইরানের পরমাণু প্রকল্প কিছুটা থমকে গেলেও দেশটির মিসাইল ও ড্রোন শক্তি প্রায় অক্ষত রয়েছে।
আমেরিকার ‘ফাউন্ডেশন ফর দ্য ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’-এর সিনিয়র ফেলো বিল রোজিও জানিয়েছেন, ইরানের হাতে এখনও প্রায় দেড় হাজার মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল মজুত রয়েছে। প্রায় অর্ধেকেরও বেশি লঞ্চারও সচল অবস্থায় রয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও তাড়াহুড়ো করতে চান না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আলোচনায় বসতে চাই, কিন্তু কোনও তাড়া নেই।” পশ্চিমি শক্তিগুলি অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, ইরান যদি আলোচনায় রাজি না হয়, তাহলে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির আওতায় থাকা ‘স্ন্যাপব্যাক’ নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর হবে। ফলে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে পারে তেহরান। কিন্তু ইরান কোনোরকম হুঁশিয়ারির পরোয়া না করেই সরাসরি আমেরিকা ও ইজরাইলকে নিশানা করে চলেছে।
