ওঙ্কার ডেস্ক : একদিকে যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে দু’সপ্তাহ সময় চেয়েছে আমেরিকা, অন্যদিকে কোনও আন্তর্জাতিক অনুমতির তোয়াক্কা না করে ইরানের পরমাণুঘাঁটিগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে চলেছে ইজরায়েল। বৃহস্পতিবার রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা পাশে থাক বা না থাক, ইজরায়েল ইরানকে ঠেকাতে তার সামরিক অভিযান চালিয়েই যাবে।
হোয়াইট হাউসের তরফে প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বোঝাপড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় চাইছেন। তাঁর কথায়, “অদূর ভবিষ্যতে একটি সমঝোতায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইরান সেই পথে হাঁটব কি না, তা নিয়ে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন প্রেসিডেন্ট।”
এই আবহেই ইজরায়েলের তরফে ঘোষণা এসেছে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, “ইরানের সমস্ত পরমাণুঘাঁটিকে আমরা টার্গেট করেছি। আমাদের সেই সামরিক ক্ষমতা রয়েছে। এই অভিযান চালাতে আমাদের অন্য কোনও দেশের অনুমতি প্রয়োজন নেই। আমেরিকা তাদের জাতীয় স্বার্থ দেখবে, আর আমি ইজরায়েলের স্বার্থ রক্ষা করব।” ইজরায়েলের এই মনোভাবকে সতর্ক করে দিয়েছে রাশিয়া। কারণ, পারমানবিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালালে তেজস্ক্রীয়তার বিপদ দেখা দেবে।
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত গত শুক্রবার। অষ্টম দিনেও দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আগুন থামেনি। ইজরায়েলের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের চারজন উচ্চপদস্থ সেনাকর্তা ও নয়জন পরমাণু বিজ্ঞানী। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকেও ইজরায়েল অভিমুখে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলের এক হাসপাতালের ওপর আঘাত হানে। যদিও তেহরান দাবি করেছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক ঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করছিল, হাসপাতাল নয়। এরই মাঝে ইজরায়েলের এক পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাস্পিয়ান সাগরের ধারে ইরানের রাশ্ট শহর। শহরবাসীকে সতর্ক করে আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়ার কথা জানালেও, ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় সেই বার্তা আদৌ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে।
প্রসঙ্গত, ইরানে ইজরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হওয়ার আগে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে দীর্ঘ কথোপকথন হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে আমেরিকার প্রতিক্রিয়া বর্তমানে অপেক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ। হোয়াইট হাউস এখনই সরাসরি সামরিক সহায়তার ঘোষণা না করলেও, ইজরায়েল এই পদক্ষেপে ‘নীরব সমর্থন’ পাচ্ছে ওয়াশিংটনের। তবে ইরান একেবারেই আত্মসমর্পণের পথে হাঁটতে নারাজ। দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই জানিয়েছেন, এই হামলার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। ইজরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যদি এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে এই লড়াই আন্তর্জাতিক পরিসরে বড়সড় রূপ নিতে পারে ও পশ্চিম এশিয়ার শক্তিসাম্য ভেঙে পড়তে পারে। সেই সম্ভাবনাকেই মাথায় রেখে আপাতত হোয়াইট হাউস অপেক্ষা করছে সিদ্ধান্ত নিতে। তবে নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, ইজরায়েল কারও সম্মতি না নিয়েই এগোবে তার পথে।
