ওঙ্কার ডেস্ক: বহু জল্পনার পর অবশেষে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল ইরান আমেরিকা। ফ্রান্সে সংগঠিত জী৭ সম্মেলনেই ডিজিটাল শান্তিচুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে জানানো হয়েছিল সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে শান্তি চুক্তি হওয়ার কথা। সেই বৈঠক প্রসঙ্গে এখনও কোনো বিবৃতি জারি করেনি কোন দেশ। জানা গিয়েছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে আমেরিকা ইরান। দীর্ঘ অশান্তি ও মনোমালিন্যর পর এই শান্তিচুক্তি কতটা কার্যকারী হবে সেই নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কয়েক মাস ধরে সামরিক উত্তেজনা, অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বিরোধ মেটাতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংঘাতের সময় পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছিল। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। যুদ্ধের কারণে উভয় দেশই সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়ে। শান্তিচুক্তির আওতায় ইরান হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করতে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত কয়েকটি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আর্থিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্র পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য আগামী কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনা চলবে। উভয় পক্ষই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘ-সহ একাধিক দেশ ও সংস্থা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিও তার সুফল পেতে পারে।
কিন্তু কূটনৈতিক মহলের একাংশ সতর্ক করে দিয়েছে যে এই চুক্তি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতের আলোচনাই নির্ধারণ করবে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক পথে ফিরতে পারে। ফলে আপাতত যুদ্ধ থামলেও আগামী দিনগুলিতে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ওপরই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।