ওঙ্কার ডেস্ক: বঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীত্বের পদ খুয়িয়ে কালীঘাটের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই তাঁর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক নিরাপত্তারক্ষীকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কোনও পূর্বসূচনা বা আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা শুধু অস্বাভাবিকই নয়, একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ির ভিতরে থাকার সময়ই তাঁর বহু বছরের বিশ্বস্ত নিরাপত্তাকর্মীদের প্রত্যাহার করা হয়। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ডেরেকের অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে দিয়ে কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সুপরিচিত। হঠাৎ করে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দল। অভিযোগ উঠেছে, পুরনো নিরাপত্তারক্ষীদের পরিবর্তে নতুন কর্মী মোতায়েনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেই ব্যবস্থায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, শুধু সংখ্যার ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত সমন্বয়ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডেরেক ও’ব্রায়েন আরও দাবি করেছেন, একজন জেড-প্লাস নিরাপত্তাপ্রাপ্ত নেত্রীর ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত নয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি প্রকাশ্যে সরব হন এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
অন্যদিকে, পদ্মফুল শিবিরের মতে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় এবং সময়ে সময়ে নিরাপত্তাকর্মীদের বদলি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তৃণমূল এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, ঘটনাটি যে সময়ে এবং যে পদ্ধতিতে ঘটানো হয়েছে, তা স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদলের সীমা ছাড়িয়ে যায়।