ওঙ্কার স্পোর্টস ডেস্ক: আট বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। কিন্তু এইবার তা হলনা। বুধবার রাতে ডালাসে সেই ক্রোয়েশিয়াকেই চার গোল মেরে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এ বার তাদের হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যে ফুটবল খেলেছে তা রোজ দেখা গেলে বিপক্ষ দলগুলির কপালে দুঃখ আছে। তরুণ দল নিয়েও ক্রোয়েশিয়ার কপালে হারই জুটল। রক্ষণ ডোবাল তাদের। এবারের বুধবার রাতে ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ডের যে ম্যাচটা হয়ে গেল, সেটা সম্ভবত এ বারের বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত সেরা ম্যাচ। ডালাসে ছয় গোলের রোমাঞ্চের ম্যাচটা রীতিমতো থ্রিলার সিনেমার মতো। আর সুপারস্টার কেন সেই থ্রিলারের নায়ক। প্রথমার্ধে দুই দলের লড়াই হল সমানে সমানে। দু’বার এগিয়ে গিয়েও লিড ধরে রাখতে পারল না ইংল্যান্ড। আবার দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যে ফুটবলটা খেলল, তাতে ইংরেজ সমর্থকরা খুশি হতেই পারেন। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণ কোনও বিভাগেই ইংল্যান্ডকে পাল্লা দিতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো থেকে লিও মেসি সকলেই এবরেরে বিশ্বকাপের সোস্তপার। 018 সেমিফাইনালের পর প্রথম সাক্ষাৎ দুই দেশের। সেবার এক্সট্রা টাইমে মারিও মান্ডজুকিচের গোলে ইংরেজদের হৃদয় ভেঙেছিল বালকানরা। এবার প্রতিশোধ নিল ইংল্যান্ড। গ্যারেথ সাউথগেটের জমানায় দু’বার তীরে এসেও তরী ডোবে। এবার দায়িত্ব দেওয়া হয় জার্মান কোচ টমাস টুখেলকে। তাঁর হাত ধরে 1966 সালের পর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছেন হ্যারি কেনরা। অন্যদিকে 2018 এবং 2022 বিশ্বকাপে সাফল্যের পর এবার বদলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। ফুটবল জীবনের বেলা শেষে লুকা মদ্রিচ, মাতেও কোভাসিচ, ইভান পেরিসিচরা।
একইসঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার সোনালি প্রজন্ম শেষের পথে। এদিন দলকে সাহায্য করতে পারেননি মদ্রিচ। 12 মিনিটে বিতর্কিত পেনাল্টিতে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেন। ম্যাচের 8 মিনিটে বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মাদুয়েকেকে ফাউল করেন লুকা মদ্রিচ। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত রেফারির। হ্যারি কেনের প্রথম শট বাঁচিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান হ্যারি কেনের শট। কিন্তু অসন্তুষ্ট হ্যারি কেন দাবি করেন, শট মারার আগে লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন ক্রোয়েশিয়া গোলকিপার। ভারের সাহায্য নেন রেফারি। খুব সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে বিতর্কিতও। সিদ্ধান্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে যায়। এবার আর কোনও ভুল করেননি ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। লিভাকোভিচকে বোকা বানিয়ে ডানদিকে নিখুঁত প্লেসিং কেনের। এই একটি মুহূর্ত ছাড়া প্রথম 30 মিনিটে দু’দলের ফুটবলেই উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। দুই দলই বল দখলে রেখে খেলার চেষ্টা করছিল।
এই সময় খেলার গতির বিরুদ্ধে ম্যাচের 36 মিনিটে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। গোল করেন বাতুরিনা। সুসিচের থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল বাতুরিনার। কিন্তু ক্রটরা ম্যাচে ফেরার আগেই আবার এগিয়ে যায় টমাস টুখেলের দল। ছয় মিনিট পরে ম্যাচের 42 মিনিটে আবার ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন কেন। কর্নার থেকে হেডে গোল করেন। বিশ্বকাপে হ্যারি কেনের দশ নম্বর গোল। ছুঁয়ে ফেলেন গ্যারি লিনেকারের। দেশের হয়ে 81তম গোল। বিরতির ঠিক আগে ফের সমতায় ফেরে রাশিয়া বিশ্বকাপের রানার্সরা। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ের শেষ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান মুসা। এই প্রথমবার বিরতির আগে জোড়া গোল হজম ইংল্যান্ডের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড অনেক বেশি গোছানো। ম্যাচের 47 মিনিটে আবার এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। গোল করেন জুড বেলিংহ্যাম। 52 মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। রাইসের নিশ্চিত গোল বাঁচান ক্রোয়েশিয়া কিপার। গোলের নীচে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন লিভাকোভিচ। পরপর তিন থেকে চারটে নিশ্চিত গোল বাঁচান। শেষ পর্যন্ত দুর্গ অক্ষত রাখতে পারেননি। সাকার পাস থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে চতুর্থ গোল মার্কাস র্যা্শফোর্ডের। জয় দিয়ে শুরু ইংল্যান্ডের। নজির স্পর্শ হ্যারি কেনের। তা সত্ত্বেও ইংল্যান্ডকে আশার কথা বলা যাচ্ছে না। অন্তত প্রথম ম্যাচের পরে।