ওঙ্কার ডেস্ক: গত ডিসেম্বরে বিশ্বখ্যত ফুটবলার মেসির সফরের অরাজকতা ঘিরে অবশেষে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি থানায় পৌঁছন এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রখ্যাত ফুটবল তারকা মেসির গোট ট্যুরের অংশ ছিল কলকাতা সফর। ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত হয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। মেসিকে ঘিরে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। তবে অনুষ্ঠানের দিনই নানা বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, অননুমোদিত ব্যক্তিদের মাঠে প্রবেশ, ভিআইপি পাস ও টিকিট বণ্টিতে অনিয়ম এবং আয়োজনে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসে। এমনকি রাজ্যের তৎকালীন ক্রীয়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে মেসির নির্ধারিত কর্মসূচিও প্রভাবিত হয় বলে দাবি করা হয়।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে অরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি প্রথম দু’বার হাজিরা দেননি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি সময় চেয়েছিলেন। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন এবং অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও পান। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে পুলিশের ডাকে হাজিরা দিতে হবে। সেই নির্দেশের পরই তিনি থানায় যান।
এই ঘটনার পর অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক টিকিট অরূপ বিশ্বাসের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছিল এবং সেই টিকিটের একটি অংশ বিক্রিও করা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার জন্যও তিনি প্রাক্তন মন্ত্রীকে দায়ী করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্ত চলাকালীন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, মেসির প্রতিনিধিদলও গোটা ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা ত্রুটির কথা উল্লেখ করে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এর ফলে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়। পুলিশ জানতে চায়, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি, টিকিট বণ্টন, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কারা কী ভূমিকা নিয়েছিলেন।
এদিন থানায় হাজির হয়ে অরূপ বিশ্বাস তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন। যদিও তিনি এর আগে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে এবং তিনি কোনও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নন। অন্যদিকে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। বর্তমানে পুলিশ বিভিন্ন নথি, সাক্ষ্য এবং প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের মতে, এদিনের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্য মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।