ওঙ্কার ডেস্ক: তেহরানে ভোররাতের এক বিধ্বংসী হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যমে জানানো হয়েছে, একটি সুরক্ষিত প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তাঁর মৃত্যু হয়।
সরকারি বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় খামেনেইয়ের কন্যা, জামাই ও নাতনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের একাধিক শীর্ষ কমান্ডার ও নিরাপত্তা আধিকারিকও প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ না করা হলেও নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে জানানো হয়েছে।
ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। দেশজুড়ে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি হামলাকে “ঐতিহাসিক সাফল্য” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে “নতুন অধ্যায়” শুরু হবে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, একটি রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতা ও তাঁর পরিবারের মৃত্যুকে ঘিরে এমন বিজয়োল্লাস কূটনৈতিক সংযমের পরিপন্থী।
ইরানের সামরিক নেতৃত্ব কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। রেভলিউশনারি গার্ড জানিয়েছে, এই হামলার জবাব “সময়মতো এবং উপযুক্তভাবে” দেওয়া হবে। পশ্চিম এশিয়ায় ইতিমধ্যেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে, ফলে নতুন করে বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৯৮৯ সাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন খামেনেই। তাঁর হাতে ছিল সামরিক, বিচার ও নীতিনির্ধারণী সর্বময় ক্ষমতা। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানের সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং পরবর্তীতে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।
একদিকে শোক, অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিএই দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ইরান এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলও গভীরভাবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে, কারণ এই ঘটনা শুধু ইরানের রাজনীতিতেই নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
