ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল সংঘর্ষে যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, তার আগেই ফের আন্তর্জাতিক মহলের চর্চায় তেহরান। ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে বুধবার সকালে ইদ্রিস আলি, আজাদ শযায় ও রাসাউল আহমদ রাসাউল নামের তিন জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোরে এই ফাঁসি কার্যকর হয়। আন্তর্জাতিক খবর অনুযায়ী, এই তিন জন ইরানের অভ্যন্তরে একটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র জোগান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় তথ্য ফাঁস করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন, যদিও ইরান এবং ইজরায়েল উভয়েই প্রথম দিকে সেই দাবি নাকচ করেছিল। পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আবারও হামলা চালানো হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কিছুটা থিতিয়ে পড়ে এই সংঘাত। ঠিক তখনই গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তেহরান যেন এক কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইরান বহু দিন ধরেই মোসাদের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র’ এবং ‘ভিতরের শত্রুদের’ মদতের অভিযোগ তুলে আসছে। গত রবিবারই মোসাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগে মাজিদ মোসায়েবি নামে এক ব্যক্তিকে ফাঁসি দেয় ইরান। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের কাছে গোপন তথ্য পাচার করতেন তিনি। এ ছাড়াও তিনি দেশের অন্দরে ইজরায়েলের হয়ে একাধিক মিশনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন বলে দাবি করেছিল ইরানি গোয়েন্দা বিভাগ।
পশ্চিম এশিয়ার মোটামুটি সবকটি দেশের সাথেই সম্পর্ক ভালো নয় ইজরায়েলের। ইরানের পরমাণু ঘাঁটি তে ইজরায়েল হামলার পর যুদ্ধের সূচনা ঘটে পশ্চিম এশিয়ার দুই দেশে। এরপর ব্যাপক রক্তক্ষয় সংঘর্ষে যুক্ত হয়ে পরে দুটি দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের যৌথ মিশন ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালায়। জবাবে কাতারে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এই সংঘাতের আঁচে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা পশ্চিম এশিয়া। এমনকী, বিশ্বযুদ্ধেরও সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল আন্তর্জাতিক মহল থেকে।
এহেন পরিস্থিতির মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হল ইজরায়েলের মোসাদের তিন অভিযুক্ত গুপ্তচরকে। ইরান এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দুই উদ্দেশ্যে বার্তা বহন করে, একদিকে দেশীয় নিরাপত্তা বিষয়ে কোনওরকম আপস নয়, অন্যদিকে মোসাদের মতো সংস্থাকে ইরানের মাটিতে মোসাদের কার্যকলাপ চালাতে দেওয়া হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতির পর এমন সিদ্ধান্ত কার্যত যুদ্ধের কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও হতে পারে। এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলের তরফে এই মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। সংঘাত থেমে থাকলেও, ছায়াযুদ্ধ যে আরও গভীর হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলল তেহরানের এই পদক্ষেপে।
