ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্র গাজায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে সংঘাতের আঁচ। একদিকে যেমন লাগাতার ইজরায়েলি হামলায় মৃত্যু-মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক স্তরেও যুদ্ধকৌশল নিয়ে সুর চড়াচ্ছে আমেরিকা। এমন এক পরিস্থিতিতে জো বাইডেনের আগের শান্তির আহ্বান থেকে একেবারে সরে গিয়ে, ফের চরমপন্থী অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য “হামাস শান্তি চায় না। ওরা মৃত্যুই চায়। এখন আর বসে থাকলে চলবে না। যুদ্ধই একমাত্র উপায়।”
সম্প্রতি হামাসের কাছে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল আমেরিকা। সেই প্রস্তাবকে এককথায় খারিজ করে দেয় হামাস। এই প্রত্যাখ্যানের পরই আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ট্রাম্পকে। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, হামাস কোনও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় না। বরং হিংসার পথেই তারা এগোতে চাইছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, শেষ দফার বন্দিমুক্তি আলোচনার ক্ষেত্রেও ইচ্ছাকৃতভাবে অনড় মনোভাব দেখিয়েছে হামাস। কারণ তারা জানে, বন্দিরা মুক্ত হলে এরপর পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে।এই প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প ইজরায়েলকে ‘উত্তর দিতে হবে’ বার্তা দিয়ে বলেন, “এখন সময় এসেছে শক্তি প্রয়োগের। হামাসকে মুছে ফেলতে হলে যুদ্ধই একমাত্র রাস্তা।”
এদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, গাজা থেকে সমস্ত বন্দিকে ফেরানো এবং হামাসের শাসনের অবসান ঘটাতে তাঁদের সরকার নতুন ‘বিকল্প কৌশল’ বিবেচনা করছে। যদিও তা ঠিক কী, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এর মধ্যেই গাজায় চলতে থাকা আক্রমণের ভয়াবহ চিত্র আরও একবার সামনে এল। শুক্রবার ইজরায়েলি বিমান হানায় ও গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১ জন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নিহত হয়েছেন গাজা সিটির একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া অবস্থায়। মৃত্যু হয়েছে সাংবাদিক আদম আবু হারবিদেরও। ‘প্রেস’ লেখা ফ্ল্যাক জ্যাকেটে মোড়া অবস্থায় তাঁর নিথর দেহ রাস্তায় মিছিল করে নিয়ে যাওয়া হয় এই দৃশ্য বিশ্ব মিডিয়ায় গভীর প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য এই সংঘর্ষের সূত্রপাত অক্টোবরের সেই ভয়াবহ হামলায়, যখন হামাসের নেতৃত্বে ইজরায়েল সীমান্তে আক্রমণে মৃত্যু হয় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইজরায়েলির এবং ২৫১ জনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয় গাজায়। সেই ঘটনার জবাবে ইজরায়েল যে চরম প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা অনুমেয় ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিক্রিয়া রূপ নিয়েছে ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞে।
গাজার স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এই সংঘাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা। পরিকাঠামো, স্কুল, হাসপাতাল সব কিছুই আজ ধ্বংসের মুখে। এই পরিস্থিতিতে যখন আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ যুদ্ধবিরতির পক্ষে সওয়াল করছে, তখন ট্রাম্পের মত নেতার এমন যুদ্ধোন্মাদ বার্তা এই সংঘর্ষকে আরও উসকে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
