ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে ইরান–ইজরায়েল সংঘাত। শুক্রবার গভীর রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বহু বাসিন্দার। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে ইজরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আভিভ-সহ একাধিক শহরে বেজে ওঠে সতর্কতামূলক সাইরেন। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় নাগরিকদের দ্রুত বাঙ্কার বা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় প্রশাসন। দেশজুড়ে জারি করা হয় উচ্চ সতর্কতা। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা দফতর জানায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং যে কোনও সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে তাদের বাহিনী।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আগাম হামলা চালানো হয়েছে। যদিও ঠিক কোন কোন স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সামরিক সূত্রে দাবি, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইজরায়েল সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে বেরোনো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃতি বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তা হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
গত কয়েক মাস ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছিল। পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিকবার একে অপরকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজরায়েল এবং ইরান। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও পাল্টা সতর্কবার্তা সেই উত্তেজনাকেই নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
বর্তমানে দুই দেশই সামরিকভাবে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
