ওঙ্কার ডেস্ক: ভোররাতে গোটা দেশ ঘুমে ডুবে। এদিকে কপালে ঘাম মুছছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। ২.৫৫তে GSLV-F17/EOS-05-এর সফল উৎক্ষেপণের পর স্বস্তি ফেরে তাঁদের মধ্যে। ইসরো সূত্রে খবর সফলভাবে নিজের কক্ষপথে স্থাপন করা গিয়েছে এই উপগ্রহটিকে। মহাকাশে এই উপগ্রহ পাঠানোর ফলে সীমান্তে নজরদারি চালানো যেমন সহজ হবে, তেমনি হিমবাহ বা ভূপ্রকৃতির পরিবর্তনও সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
শুক্রবার ভোর ২.৫৫তে রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। তার ১৯ মিনিটের মধ্যে সফলভাবে সেটি কক্ষপথে পৌঁছে যায়। EOS-05 এই প্রথম জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করবে। এই উপগ্রহের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম সংকেত পাওয়া যাবে, তেমনই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য় পাওয়া যাবে। এর শক্তিশালী ক্যামেরার মাধ্যমে হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহের গলন, ফাটল, বরফ এবং তার পরিবর্তনে নজর রাখা সম্ভব হবে। ফলে আকস্মিক হিমবাহ ধস এর মতো বিপর্যয়ের পূর্বাভাস পাওয়া সহজ হবে। ইসরোর এমন সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ইসরোর মুকুটে নতুন পালক জুড়ল। গোটা দেশের পক্ষে গর্বের মুহূর্ত এটি।
বিজ্ঞানমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এই ঘটনাকে ‘মহাকাশে ভারতের এক বিশাল পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “GSLV-F17/EOS-05-এর সফল উৎক্ষেপণের জন্য ইসরোর টিমকে অভিনন্দন। EOS-05 হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি ‘আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট’ এবং জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ভারতের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট।’ উল্লেখ্য, এর আগে ইসরোর ‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল’ রকেট পরপর ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল। ভারতের মহাকাশ সংস্থাটি কঠিন সময়ের পর সাফল্য পেল। প্রতিকূলতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারায় উচ্ছ্বসিত বিজ্ঞানীরা।