ওঙ্কার ডেস্ক: নিরাপত্তার কারণে এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি নির্মূল করতে ইতালিতে স্কুলে স্কুলে নিষিদ্ধ হতে চলেছে বোরখা এবং নিকাব। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই ঘোষণা করেছেন। রবিবার তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদেশি পড়ুয়াদের সংখ্যাও বেঁধে দেওয়া হবে। বাধ্যতামূলকভাবে পড়ুয়াদের শিখতে হবে ইটালিয় ভাষা। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা ঘিরে সে দেশে শুরুহয়েছে জোর চর্চা।
রিপোর্ট অনুসারে, আগামী বছর ইতালিতে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে রাজনৈতিক কারণে এই ঘোষণা বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপে প্রবেশের জন্য অভিবাসীরা প্রথমে ইতালিতে গিয়ে ওঠে। আগামী বছর নির্বাচনের আগে ইতিমধ্যে সে দেশে সক্রিয় হয়েছে ডানপন্থী দল ন্যাশনাল ফিউচার পার্টি। অভিবাসী ইস্যু প্রবল জনমতের কারণে রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে সে দেশে। স্থানীয়দের সঙ্গে অভিবাসীদের মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রচারের ইস্যু হয়ে উঠেছে। রবিবার ব্রাদার্স অব ইটালির এক সভায় বক্তব্য রাখেন মেলোনি। সেখানে তিনি ঘোষণা করেন, স্কুলে প্রত্যেক শ্রেণিতে কতজন বিদেশি পড়ুয়া থাকবে সে বিষয়ে আইন আনা হবে। পড়ুয়াদের মা-বাবাকেও ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি স্কুলে বোরখা ও নেকাব পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, ইতালিতে বোরখা নিষিদ্ধের দাবি নতুন নয়। এর আগে গত জুলাই মাসে ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) পার্টি এই দাবি তুলেছিল। দলটির নেতারা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধর্মীয় পোশাক বন্ধ করতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে এফএন পার্টি মেলোনির দলকে বিপাকে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এ বিষয়ে গত বছর অক্টোবরে ইতালির সংসদে এক বিল পেশ করা হয়েছিল। যেখানে বলা হয়, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জন পরিসরে পুরোপুরি শরীর ঢাকা পোশাক পরা যাবে না। স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, এইসব প্রকাশ্য স্থানে বোরখা কিংবা হিজাব পরা যাবে না। নির্বাচনের আগে ফের সেই ইস্যুটিকে সামনে আনলেন মেলোনি।