নিজস্ব সংবাদদাতা: পাঁচ মাসের মধ্যে আবার ভারত সফরে এলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। মঙ্গলবার দুপুরে মুম্বই পৌঁছেই তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া পরিদর্শন করেন। এরপর ২৬/১ হামলায় নিহতদের স্মৃতিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
দুপুর সওয়া ২টো নাগাদ ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে রুবিয়োর বিমান। মুম্বইয়ের কর্মসূচি শেষে ঐতিহ্যবাহী তাজমহল প্যালেস হোটেলে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠক শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিয়ো প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বলেন, বিদেশ দফতর সরাসরি বাণিজ্য আলোচনা না করলেও বিষয়টি তারা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাঁর কথায়, চুক্তি সম্পন্ন করার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে দুই দেশ। আরও কিছু বিষয় চূড়ান্ত হলেই শিগগিরই সুখবর ঘোষণা করা সম্ভব।
তবে বৈঠকে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয় জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং খনিজ সম্পদ নিয়ে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নিয়েও আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর এই ইস্যুতে দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে রুবিয়ো ভারতের জ্বালানি নীতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র আনার চেষ্টা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই করছে এবং সেটা বুদ্ধিমানের কাজ। এই পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়, তবে এই খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
রুবিয়ো এদিন ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির বিষয়টিও আলোচনায় ওঠে।