নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতায় ফের ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় কলকাতা। কসবার ল-কলেজের এক তরুণীর অভিযোগে নড়েচড়ে বসল পুলিশ। নিগৃহীতার অভিযোগ, কলেজেরই এক প্রাক্তনী এবং বর্তমান ২ জন পড়ুয়া মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতেই ৩জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কসবা থানায় ওই তরুণী মূল অভিযোগ এনেছেন তৃণমূল ছাত্রপরিষদ নেতা মনোজিৎ মিশ্রর বিরুদ্ধে। তিনি আবার আলিপুর কোর্টে প্র্যাকটিস করেন। বাকি অভিযুক্তরা হল জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়।
তরুণীর অভিযোগ মোতাবেক কলেজের মধ্যেই গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার, ২৫ জুন রাতে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই কলেজের ছাত্রী। এরপরই নড়েচড়ে বসে কসবা থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই ধরা পড়ে তিন জন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর মেডিক্যাল টেস্টও করানো হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তিনজনের মধ্যে রয়েছে এক তৃণমূল নেতা, তাকেই মূল অভিযুক্ত করেছে নিগৃহীতা।
পুলিশকে ওই তরুণী জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় কলেজেরই একটি রুমেই তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। সময়টা সন্ধে সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮.৫০-এর মধ্যে। তার আগে কলেজের জিএস পদের লোভ দেখিয়ে একটি রুমে ওই তরুণীকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কলেজের এক প্রাক্তন ছাত্র কীভাবে সন্ধ্যার পর কলেজে ঢুকল ? নিরাপত্তারক্ষীদের ভূমিকা কি ? এতবড় একটি ঘটনায় কি করে নীরব থাকলো কলেজ কর্তৃপক্ষ ? এইসব বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী পুলিশ।
ধৃতদের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই তরুণীর গোপন জবানবন্দিও নেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে শুক্রবার আলিপুর কোর্টে তোলা হয়। পুলিশ তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তদন্ত চালাতে চাইছে। ঘটনাটির পুনর্নির্মাণও করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
