ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার কসবার সাউথ কলকাতা ল কলেজে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে কলেজ চত্বরে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যে। ঠিক কী হয়েছিল সেই রাতে? কীভাবে দিনের শেষে ভয়াবহ সেই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল নির্যাতিতাকে? এ বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানিয়েছেন নির্যাতিতা নিজেই।
নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একটি মিটিং ছিল। মিটিং শেষে কলেজের ইউনিয়ন রুমে আড্ডা চলছিল। সেখানেই ছিলেন কলেজের এক প্রাক্তন ছাত্র ‘জে’ এবং দুই সিনিয়র ‘এম’ ও ‘পি। বিকেলে বাড়ি ফিরতে যাওয়ার সময়ে ‘জে’ তাঁকে বলেন, কিছুক্ষণের জন্য থেকে যেতে দলের কিছু কাজ নিয়ে কথা হবে। নির্যাতিতা তখন কিছু বুঝতে না পেরে রাজি হয়ে যান। ইউনিয়ন রুমে নিয়ে গিয়ে ‘জে’ নিজের ব্যক্তিগত কথা বলতে শুরু করেন। পুলিশকে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, হঠাৎই ‘জে’ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, বলেন কলেজে প্রথম দিন থেকে তাঁকে পছন্দ করেন। নির্যাতিতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর অন্য প্রেমিক আছে এবং তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারবেন না। এরপরও শুরু হয় চাপ।
সন্ধেবেলায় বাড়ি ফিরতে গেলে ফের তাঁকে আটকান ‘জে’। তখন ‘এম’ ও ‘পি’ ইউনিয়ন রুমের বাইরে বেরিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। ঘরে একা পেয়ে ‘জে’ জোর করে তাঁর উপর শারীরিক হেনস্তা শুরু করে। নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘‘আমি ওর পা ছুঁয়ে কেঁদেছিলাম, অনুরোধ করেছিলাম ছেড়ে দিতে। বলেছিলাম আমার বয়ফ্রেন্ড আছে, ওকেই ভালোবাসি। কিন্তু ও শুনল না। জোর করে ধর্ষণ করে।’’ শারীরিক অত্যাচারের সময়ই প্রবল প্যানিক অ্যাটাক হয় তরুণীর। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, জানান তরুনী। তখন ‘জে’ বাইরে দাঁড়ানো ‘এম’ ও ‘পি’-কে ডেকে পাঠায়। নির্যাতিতা অনুরোধ করেন ইনহেলার আনার জন্য। ‘এম’ ইনহেলার এনে দেয়, কিছুক্ষণ পরে শ্বাস স্বাভাবিক হয়। তরুণী জানান, এরপরও পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে গার্ডরুমে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, তখন কলেজের মেন গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষী সব দেখেও কিছু করেননি। গার্ডরুমে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে ফের ধর্ষণ করা হয়। বাধা দিলে হকিস্টিক দিয়ে মারার ভয় দেখানো হয়। হুমকি দেওয়া হয়, কাউকে কিছু বললে প্রেমিক ও পরিবারকে মেরে ফেলা হবে।
এই ভয়ঙ্কর ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে মেডিক্যাল টেস্টে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রমাণ, কামড়ের দাগ ও নখের আঁচড় মিলেছে যা নির্যাতিতার অভিযোগের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। পুলিশ ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। এখন তাঁরা পুলিশি হেফাজতে আছে। সিসিটিভি ফুটেজ, গার্ডরুম ও ইউনিয়ন রুমের সব তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
