নিজস্ব সংবাদদাতা : কসবায় সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মোট তিনটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। বৃহস্পতিবার সেই মামলাগুলির শুনানি হওয়ার কথা। তার আগে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যেরা এই মামলাগুলিতে যুক্ত হতে চেয়ে হাই কোর্টে গিয়েছেন। বুধবার তাঁরা আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে কীভাবে মামলায় যুক্ত হওয়া যায়, তার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়ে পরামর্শ করেন। পরিবারের অভিযোগ, এই তিনটি মামলার একটিতেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তাঁরাই। তদন্ত, নজরদারি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে বিষয়গুলো নিয়ে আদালত রায় দেবে, তা নিয়ে তাঁদের বক্তব্য আদালতে শোনার অধিকার রয়েছে বলেই মত তাঁদের।
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন কসবা ল’ কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং আরো দুই জনের উপর। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কলকাতা পুলিশের নয়জনের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ইতিমধ্যেই তদন্ত করছে। বুধবার থেকে এই ঘটনার তদন্তভার গোয়েন্দা বিভাগকেও দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার স্পষ্ট করেছে যে তারা সিবিআই তদন্ত চায় না, কলকাতা পুলিশের উপরেই তাদের আস্থা আছে। অথচ জনস্বার্থ মামলাগুলিতে সিবিআই তদন্তের দাবিও জানানো হয়েছে।
এই তিনটি মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চে হবে। মামলাকারীরা চাইছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে সিবিআই তদন্ত হোক। পাশাপাশি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানো, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং নারী সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
নির্যাতিতা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, ২৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। প্রথমে ইউনিয়ন রুমে ধর্ষণের চেষ্টা, পরে রক্ষীর ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। হকি স্টিক দিয়ে মারধরের চেষ্টার কথাও বলেছেন তিনি। মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র, টিএমসিপি নেতা ও কলেজের প্রাক্তনী, অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং আলিপুর আদালতে আইনজীবী ছিলেন। বুধবারই রাজ্য বার কাউন্সিলের তালিকা থেকে তাঁর নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই অভিযুক্ত ওই কলেজের বর্তমান ছাত্র। এছাড়াও, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা রক্ষীকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে নির্যাতিতার পরিবার আদালতে যুক্ত হতে পারবে কি না, তার দিকেই এখন সকলের নজর।
