ওঙ্কার ডেস্ক: গভীর রাতে আবারও গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়াল কসবার বোসপুকুর এলাকায়। বুধবার রাত প্রায় এগারোটার দিকে পরিত্যক্ত খালপাড়ে বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন ২১ বছর বয়সি অভিজিৎ নাইয়া। সেই সময় আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায় এবং অভিজিতের বাঁ হাতের তালুতে আঘাত লাগে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হ্যান্ডগান থেকে ছোড়া গুলি তাঁর হাত ভেদ করে বেরিয়ে গিয়েছে, যদিও তিনি এখন স্থিতিশীল।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কসবা থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশের নজরে আসে বেশ কিছু অসঙ্গতি। আহত অভিজিতের কথায় বলা হয়েছে, তাঁর পরিচিত এক যুবকের সঙ্গে আচমকা বচসা বেঁধে যায় এবং সেই বচসার মধ্যেই গুলি চলে। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার কিছু অংশ স্পষ্ট নয়। এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, আশপাশের বাসিন্দাদের বয়ান এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখার পর পুলিশের ধারণা, বিষয়টি শুধুই হঠাৎ বচসার ফল নয়, এর নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা বা কোনও অপরাধজগতের যোগ থাকতে পারে।
রাতভর তল্লাশি চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ গ্রেফতার করে অভিজিৎ সর্দার ওরফে বাবাই নামে এক যুবককে। তাঁর কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় একটি পিস্তল, যা গুলির ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে অনুমান। আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং কারও মদত ছিল কি না তা খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনায় এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। গত কয়েক মাসে কসবার বিভিন্ন অংশে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, খালপাড়ের নির্জন এলাকাগুলিতে রাতের বেলা নিয়মিত মাদকসেবী এবং দুষ্কৃতীরা জড়ো হয়, ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বাড়ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং রাতের বেলায় টহল বাড়ানো হবে। পাশাপাশি গুলির ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্টদের যোগসূত্র এবং অস্ত্রের উৎস সবকিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, জিজ্ঞাসাবাদ ও ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে খুব শিগগিরই গোটা ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে।
