নিজস্ব সংবাদদাতা: কসবা ল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের বিরুদ্ধে আগেই অন্তত ১২টি মামলা ছিল। মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে এমনই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন সরকারি আইনজীবী। সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ, মনোজিতের বিরুদ্ধে ২০২৩ সাল থেকে মারপিট, ঝামেলা এবং মহিলাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের একাধিক অভিযোগ থাকলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে আরও বড় অপরাধের সুযোগ পেয়ে যায় অভিযুক্ত। আদালত সাফ প্রশ্ন তোলে এতগুলি মামলা চলার পরও পুলিশের ভূমিকা কী ছিল?
সরকারি আইনজীবীর দাবি, অভিযুক্তরা সবাই একসঙ্গে থাকত এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ কখনও কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে অভিযোগ জমা পড়লেও আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ দিন কসবা থানার দুইটি পুরনো মামলায় (২০২৩ সালের মারধর ও ২০২৪ সালের সংঘর্ষ) মনোজিৎকে ফের গ্রেফতার করা হয়। যদিও দুই মামলাতেই চার্জশিট জমা থাকায় আদালত তাঁকে জামিন দেন। আদালতে মনোজিতের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল রাজনীতির শিকার। রাজনৈতিক কারণে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। পাল্টা সরকারি আইনজীবী জানান, বুধবার অভিযুক্তদের হাঁটার ধরন গেট প্যাটার্ন পরীক্ষা হবে। কলেজের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে।
২৩ জুলাই মনোজিৎ ছাড়াও আরও তিন অভিযুক্ত জইব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় কে আদালতে তোলা হয়। মনোজিতের পক্ষ থেকে জামিন চাওয়া হয়নি। বাকি তিনজনের পক্ষে জামিন চাওয়া হলেও আদালত চারজনকেই ৫ অগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জেলে মনোজিতের জন্য মশারি, কম্বল, জল, বাতাস ও লেখার জিনিসের দাবি জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। সরকারি আইনজীবী তাতে আপত্তি তুলে বলেন, পেন-পেপার পেলে সে নিজেকে ভালো ছাত্র হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত নির্দেশ দিয়েছে, জেলে থাকাকালীন অভিযুক্তদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে হবে।
নিরাপত্তা রক্ষী পিনাকীর আইনজীবীর দাবি, ঘটনার সময় তিনি গার্ডরুমের বাইরে ছিলেন, ঘটনার কিছুই জানতেন না। কিন্তু সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই মূল অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেছিলেন পিনাকী। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে। শীঘ্রই চার্জশিট পেশ করা হবে আদালতে।
