ওঙ্কার ডেস্ক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ভারত সফরকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক। তবে এই সফরে “ভিসা নীতিতে কোনও পরিবর্তন বা নতুন সুযোগের পরিকল্পনা নেই”, স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্টারমার নিজেই। ফলে ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ ভিসা ছাড় বা নতুন পথ খোলার আশা আপাতত দূরই রইল।
দুই দিনের এই সফরে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত যুক্তরাজ্য-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাড়ানোর নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে টেক্সটাইল, গাড়ি ও হুইস্কির মতো পণ্যে শুল্ক কমানো হয়েছে। অনুমান, এর মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে স্টারমারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে এই চুক্তির বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী নীতি নির্ধারণ। তবে, তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বা ভিসা নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসছে না। তাঁর কথায়, “এই সফরের লক্ষ্য অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা, ভিসা নীতি নিয়ে নয়।”
ব্রিটেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে অভিবাসন প্রশ্নটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই, এই সফরে ভিসা প্রসঙ্গ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে স্টারমার একদিকে নিজের দেশের ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাইছেন, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান দুই দিকেই বার্তা দিচ্ছে ব্রিটেন চাইছে ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করতে, কিন্তু দেশীয় অভিবাসন চাপের কারণে জনমতের বিরোধিতায় ভিসা নিয়ে নরম অবস্থান নিতে পারছে না। ফলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত পেশাজীবীদের জন্য নতুন ভিসা সুযোগ আপাতত অনিশ্চিতই রইল। সামগ্রিকভাবে, স্টারমারের এই সফর দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ব্যবসায়িক সহযোগিতাই নয়, বরং আগামী দুই দশকে ভারত ও যুক্তরাজ্যের কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন রূপরেখা তৈরির সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
