ওঙ্কার ডেস্কঃ নিপার থাবায় বার বার আক্রান্ত হয়েছে কেরালা। ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে দক্ষিণের রাজ্য। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগের থেকে শিক্ষা নিয়েছে সে রাজ্যের প্রশাসন। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই নিপা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে নজির গড়েছিল তারা। অভিজ্ঞতা, প্রস্তুতি আর সিদ্ধান্ত এই তিন অস্ত্রে সাফল্য পায় কেরালা।
সূত্রের খবর, ২০০১ সাল থেকে ভারতে মোট ছ’বার নিপা প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে ৪টিই কেরালায়। ২০২৩-এর সংক্রমণে আগের অভিজ্ঞতাই কাজে লাগায় কেরালা।
WHO-এর মতে, কেরালার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়। বাড়ি বাড়ি নজরদারি, দ্রুত ল্যাব পরীক্ষা, আইসোলেশন সেন্টার, তৈরি এবং মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার সুস্পষ্ট প্রোটোকল মানা হয় কেরালায়। পাশাপাশি এনসেফালাইটিস-এর মতো লক্ষণ এক জনের মধ্যেও দেখা গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাই কেরালার বড় শক্তি। সেই রাজ্যে এখন একাধিক বায়োসেফটি লেভেল-২ ল্যাব এবং ভাইরাস আলাদা করার জন্য BSL-3 সুবিধা রয়েছে। ২০১৯ সালে তৈরি হয়েছে আলাদা ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট।
কেরালার পাশাপাশি এবার বাংলাতেও নিপার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। বারাসাত হাসপাতালে ২ ব্যক্তি চিকিৎসাধীন। ডাক্তার বলছেন, তাদের অবস্থা গুরুতর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেরালা থেকে শিক্ষা নিতে হবে যেকোনও রাজ্যকে। এমন মারাত্মক ভাইরাসকেও কীভাবে আটকে দিতে হয় ভাল প্ল্যানিংয়ের মাধ্যমে।
প্রসঙ্গত, নিপা সংক্রমণে জলবায়ু পরিবর্তনের ছায়া রয়েছে। ভাইরোলজিস্ট শহিদ জামিল মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বন কেটে ফেলা বাদুড়ের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। সেই চাপ থেকেই ভাইরাস শেডিং বাড়তে পারে। খেজুরের রস বা ফলের মধ্যে থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা তো রয়েছেই।
