ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই দ্বিতীয় দফার প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করল বিএনপি। চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও নির্বাচনী প্রস্তুতি থামিয়ে রাখেনি দল। ঢাকার গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে নতুন তালিকা ঘোষণা করা হয়, যেখানে মোট ৩৬টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় বড় অংশের আসনে প্রার্থী নির্ধারণ করলেও কিছু আসন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্যায়ের তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে সেই শূন্যস্থান পূরণ হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নতুন তালিকায় ঢাকার একাধিক আসনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই তালিকা প্রকাশের সময় দল জানায়, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কোনও সম্ভাবনা নেই। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাচ্ছে এবং বিরোধী শক্তির সাংগঠনিক উপস্থিতি বজায় রাখতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক রয়েছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ শুরু হলেও বিমান এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দলের অনেক সদস্যই নেত্রীর অসুস্থতার মধ্যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পিছনে নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতাকে তুলে ধরছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে দ্বিতীয় দফার তালিকা ঘোষণা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে কর্মীদের মধ্যে আঞ্চলিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম দ্রুত জোরদার হবে। একইসঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করার সুযোগ মিলবে বলে তাদের ধারণা। তবে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা দলীয় সিদ্ধান্তগ্রহণ ও মাঠপর্যায়ের মনোবলের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে দলের রাজনৈতিক কৌশল কতটা কার্যকর হবে তা এখনই বলা কঠিন। ভোটের আগে দলীয় প্রচার, জনসংযোগ এবং প্রার্থীদের এলাকায় উপস্থিতি কতটা দৃশ্যমান হয় তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তবুও, প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে বিএনপি যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল, তা বাংলাদেশি রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
