কিডনিতে খনিজ ও লবণ জমে শক্ত পাথরের মতো পদার্থ তৈরি হলে তাকে কিডনি স্টোন বা কিডনিতে পাথর বলা হয়। ছোট পাথর অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। তবে পাথর বড় হলে বা মূত্রনালিতে আটকে গেলে তীব্র ব্যথা ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিডনি স্টোনের সাধারণ লক্ষণ
কিডনি স্টোনের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো কোমর বা পিঠের এক পাশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা। এই ব্যথা তলপেট ও কুঁচকির দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং কখনও কম-বেশি হতে পারে। এছাড়া প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা, বারবার প্রস্রাবের বেগ, অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া এবং প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে। কারও কারও বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে।
পাথরের সঙ্গে সংক্রমণ থাকলে জ্বর, কাঁপুনি, দুর্বলতা বা ঘোলাটে/দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হতে পারে। তীব্র ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া বা খুব কমে যাওয়া হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কীভাবে চিকিৎসা করা হয়?
কিডনি স্টোনের চিকিৎসা পাথরের আকার, অবস্থান এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। ছোট পাথর অনেক সময় পর্যাপ্ত তরল পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজে থেকেই বেরিয়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক পাথর বের হতে সাহায্য করার জন্য ওষুধ দিতে পারেন।
পাথর বড় হলে বা নিজে থেকে বের না হলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী শক ওয়েভ দিয়ে পাথর ভাঙা, ইউরেটেরোস্কোপির মাধ্যমে পাথর অপসারণ বা অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
প্রতিরোধে কী করবেন?
কিডনি স্টোন প্রতিরোধে পর্যাপ্ত জল পান করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কতটা জল পান করবেন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কমানো, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা উপকারী হতে পারে। আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে পাথরের ধরন ও কারণ নির্ণয় করে ভবিষ্যতে প্রতিরোধের পরিকল্পনা করা ভালো।
মনে রাখবেন, কিডনি স্টোনের লক্ষণ অন্য কিছু রোগের সঙ্গেও মিলতে পারে। তাই তীব্র বা বারবার হওয়া ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত কিংবা জ্বর থাকলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।