নিজস্ব সংবাদদাতা : সাম্প্রতিক বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করে নিজেদের চাহিদা মেটাতে চাইছে আমেরিকা। তার জন্য ওয়াশিংটন চাপিয়ে দিতে চাইছে নিজেদের মতো করে নতুন নতুন গোঁড়া শর্ত। শনিবার কলকাতায় আইআইএম ক্যাম্পাসে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের চলতি সংকট প্রসঙ্গে বস্তুত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নিশানা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “এটা এমন এক যুগ যেখানে রাজনীতিতে ক্রমেই বেড়ে চলেছে ‘ট্রাম্প’ অর্থনীতি। এটা কোনো আনন্দের কথা নয়, এতে বিশ্বে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থ মেনে নিজেদের সরবরাহকারী রসদকে বৈচিত্রময় করে তুলতে হবে।” তাঁর কথায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মর্জি মাফিক অন্যান্য দেশগুলির উপর নতুন নতুন শর্ত চাপাচ্ছে।
বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে দুটি সমান্তরাল আলোচনা চলছে। একটি শুল্ক সংক্রান্ত বাণিজ্য চিক্তির কাঠামো নিয়ে এবং অন্যটি একটি সামগ্রিক বাণিজ্য চুক্তির উপর। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে চীন নিজস্ব নিয়ম মেনে চলে আসছে এবং এখনও তা করে চলেছে”। এর ফলে অন্যান্য দেশগুলির কাছে স্পষ্ট নয় যে তারা কোনো দিকে চলচবে। দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রত্যক্ষ প্রতিযোগিতার উপর, নাকি বাণিজ্য বন্ধ কিংবা বোঝাপড়ার উপর। জয়শঙ্কর বলেন, “বিশ্বায়ন, খণ্ডিতকরণ এবং সরবরাহ নিরাপত্তাহীনতার এই ধরনের টান এবং চাপের মুখোমুখি হয়ে, বাকি বিশ্ব সমস্ত সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিরুদ্ধে হেজিং করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।” তাই তিনি জোর দিয়েছেন, ভারতের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির উপর। তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন যেকোনো মানদণ্ডে এগিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বও ভারতের অগ্রগতি লক্ষ্য করছে।” বাণিজ্যের ক্ষেত্রে “আমরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হব, ঠিক যেমন আমাদের সংযোগ পরিকল্পনা কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক বিবেচনার দ্বারা পরিচালিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
জয়শঙ্কর বলেন, “সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারতের পরিকল্পনা করছে। আমাদের বিদেশ নীতির লক্ষ্য হল বর্তমান সীমার বাইরে আমাদের পদচিহ্ন ক্রমাগত প্রসারিত করা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, গ্লোবাল সাউথের সাথে ভারত যে সংহতি গড়ে তুলেছে তা এই কাজের ভিত্তি তৈরি করে। যখন ব্যাপক জাতীয় শক্তি বৃদ্ধির কথা আসে, তখন কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় নয় বরং সক্রিয়”। তাই তিনি মনে করেন, “একটি বৃহৎ শক্তি, তাও আমাদের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পন্ন, তাদের অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য শিল্প ভিত্তি থাকতে হবে।” শিল্পোন্নয়নের প্রচার এবং তাকে উৎসাহিত করা, আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার বলে মনে করেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “গত এক দশকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-এর উপর জোর দেওয়া একটি ভিন্ন মানসিকতা এবং বৃহত্তর উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা বলে। তিনি বলেন যে উন্নত প্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে যাতে ভারত পিছিয়ে না থাকে।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, “আমরা এখন চিপস এবং সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ব্যাটারি, ড্রোন এবং মহাকাশ, অথবা ন্যানোটেক এবং জৈব বিজ্ঞানের জগতে আছি। এগুলির প্রতিটিই লাফিয়ে লাফিয়ে অনন্য ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়।”
