ওঙ্কার ডেস্ক: শহরে শীত নামে না-নামতেই কলকাতার বাতাস যেন ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। গত কয়েক দিনে বায়ুগুণের সূচক এমনভাবে নেমে গিয়েছে যে তা নাগরিকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল, দক্ষিণ কলকাতা এবং কয়েকটি জনপ্রিয় আবাসিক এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বাতাসে দূষণের ঘনত্ব চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। রাতে কলকাতার একিউআই ৩৪২ এ পৌঁছায়। এদিন রাজধানী দিল্লিতে একিউআই ছিল ২৯০। আর এতেই মাথায় হাত পরেছে শহরবাসীর।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতার ওপর যে ঠান্ডা আবহাওয়ার স্তর তৈরি হচ্ছে তার নিচে দূষিত কণাগুলি আটকে থাকছে। বাতাসের বেগ কম থাকায় সেই কণাগুলি উপরে উঠতে পারছে না। শহরের হাসপাতালগুলিতে শ্বাসকষ্ট, কাশি এবং অ্যালার্জি-সংক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতর থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। বাতাসের ভারী ভাব, আকাশে ধোঁয়াটে স্তর এবং ভোরে রাস্তায় আলোর নিচে ঝাপসা দৃশ্য সবই শহরের ফুসফুসকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
মহানগরের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে কয়েকটি কারণকে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলোকণা, খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো এবং শিল্প এলাকায় কু-মানের বর্জ্য নির্গমন। অফিস সময় থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রধান রাস্তাগুলিতে যানজটের ফলে গাড়ির ধোঁয়া বাতাসে মিশছে। ব্যস্ত মোড়, ফ্লাইওভারের নীচের এলাকা এবং নির্মাণস্থলের আশেপাশে জমে থাকা ধুলো বাতাসে ভেসে থেকে দূষণ আরও বাড়াচ্ছে।
শহরের স্কুল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে। বাচ্চাদের বাইরে খেলাধুলা কমাতে বলা হচ্ছে। অনেক পরিবার শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক পড়তে বাধ্য করছে। গৃহবন্দি বৃদ্ধদের জন্য চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কিছুতেই ভোরবেলা বা রাতের ঠান্ডা সময়ে বাইরে না বেরোতে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্থায়ী কিছু পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে রাস্তা পরিষ্কার, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণস্থলে ঢাকনা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। বর্জ্য পোড়ানো বন্ধে নজরদারি জোরদার করার কথাও উঠে আসছে। তবে পরিবেশকর্মীরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যবস্থা অস্থায়ী হলে লাভ হবে না। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া দূষণ কাটানো সম্ভব নয়।
কলকাতা দীর্ঘদিন ধরে শীতকালে দূষণের সমস্যায় ভুগছে। তবুও এ বছর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শহরের বাসিন্দারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও এমন ঘন ধোঁয়ার স্তর দেখা যেত না। চোখ জ্বালা, গলায় খচখচ ভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি এখন যেন প্রায় স্বাভাবিক দৃশ্য। এই অবস্থায় পরিবেশ-সুরক্ষার প্রকৃত উদ্যোগ, সুনির্দিষ্ট নীতি এবং নাগরিকদের সচেতনতার সমাধানের পথ বের করতে হবে। না হলে শহরের ফুসফুস আগামী দিনে আরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকছে।
