ওঙ্কার ডেস্ক: বহু জল্পনার পর অবশেষে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পেল কালীঘাট তৃণমূল। বিড়লা প্ল্যানটেরিয়ামে ২১ জুলাই পালনের জন্য অনুমতি পেয়েছে মমতা পন্থী ঘাসফুল শিবির। কিন্তু শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে জানানো হয় ৩০০০-এর বেশি জমায়েত করা যাবে না এদিনের অনুষ্ঠানে। আগে আদালতের তরফ থেকে হাজরা মোড়ে শহিদ দিবস পালনের কথা বললে কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় বিকল্প স্থান হিসাবে ডোরিনা ক্রসিং, এসপ্লানেড অথবা বিড়লা প্ল্যানটেরিয়ামের কথা পেশ করেন। বুধবার এবিষয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়ে রায় স্থগিত রাখে আদালত। এরপরই বিড়লা প্ল্যানটেরিয়ামের সামনে শর্ত সাপেক্ষ জমায়েতের অনুমতি পায় কালীঘাট তৃণমূল।
রাজ্যে শহিদ দিবস পালন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শহিদ দিবস কোন দল পালন করবে সেই নিয়েও চলছে বচসা। একদিকে ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল শহিদ দিবস পালনের দাবি তোলে অন্যদিকে রাজ্যের হাত শিবিরও ২১ জুলাই পালন করার মত প্রকাশ করে। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান একান্ত করে রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহত্মা গান্ধীর পাদদেশে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতেন। জেলা থেকে বহু মানুষের আগমন হত এই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে।
একদা ২১ জুলাই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। রাজ্যে পালাবদলের পর বেহাল অবস্থায় তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি চেয়ে আদালতের দারস্থ হয়েছিল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল। গান্ধী মুর্তির পাদদেশের সভা করার অনুমতি পেয়েছে ‘আসল তৃণমূল’। অন্যদিকে শহিদ দিবস উদযাপনের আসল দাবিদার কংগ্রেস বলে জানায় হাত শিবির। শহিদ মিনারে ২১ জুলাই সভামঞ্চ করার অনুমতি পায় হাত শিবির। দ্বন্দে ছিল কালীঘাট তৃণমূল। পুলিশের কাছে অনুমতির আর্জি জানালে কোন উত্তর না আসায় আদালতের দারস্থ হয় মমতা-পন্থী তৃণমূল। অবশেষে বহু জল্পনার পর বিড়লা প্ল্যানটেরিয়ামের সামনে ৩০০০ জনের জমায়েতে করতে পারবেন বলে জানিয়েছে আদালত।