ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জনগণনার ডিজিটাল স্ব-তথ্য নথিভুক্তকরণ বা ‘সেল্ফ এনুমারেশন’ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। এই উপলক্ষে রাজ্যের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো নাগরিকরা চাইলে জনগণনার নির্ধারিত তথ্য নিজেরাই অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন। এর ফলে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও অনলাইনে সেল্ফ এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেন। এবং তিনি জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেন এই ডিজিটাল ফর্ম ফিল-আপে কোন ব্যাক্তির তথ্য ফাঁস হবে না। তাই নির্দ্বিধায় সেল্ফ এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করার জন্য সাধারণ মানুষকে তিনি উৎসাহিত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “জনগণনা শুধুমাত্র জনসংখ্যার হিসাব নয়, বরং ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনা, সরকারি প্রকল্প, পরিকাঠামো গঠন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে”। তিনি জানান, “তাই প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নির্ভুল তথ্য প্রদান করে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা”। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “জনগণনার সময় দেওয়া সমস্ত তথ্য আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং শুধুমাত্র সরকারি পরিসংখ্যান ও নীতিনির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা হবে”। “কোনও ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না”, বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সেল্ফ এনিউমারেশন করতে হলে নির্ধারিত সরকারি পোর্টালে গিয়ে প্রথমে মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। ওটিপি যাচাইয়ের পর লগ-ইন করে পরিবারের প্রধান বা অনুমোদিত সদস্য পরিবারের ঠিকানা, সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য প্রাথমিক তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন। এরপর পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জন্মতারিখ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, বৈবাহিক অবস্থা, মাতৃভাষা, ধর্ম-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য ধাপে ধাপে পূরণ করতে হবে। সমস্ত তথ্য যাচাই করে চূড়ান্তভাবে জমা দিলে একটি ইউনিক সেল্ফ এনিউমারেশন আইডি তৈরি হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তীকালে গণনাকারীরা বাড়িতে এলে সেই ইউনিক আইডি দেখালেই হবে। তবে কেউ যদি অনলাইনে তথ্য জমা না দেন, সেক্ষেত্রে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচলিত পদ্ধতিতেই তথ্য সংগ্রহ করবেন। ফলে কোনও নাগরিক জনগণনার বাইরে থাকবেন না।