ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন হোক বা অধিবেশন না থাকুক, সাধারণ মানুষের সমস্যা ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য যাতে সরাসরি সরকারের কাছে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই নতুন নির্দেশ জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার থেকে প্রত্যেক মন্ত্রীকে সপ্তাহে অন্তত একদিন বিধায়কদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই হবে। সেই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দফতর সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং এলাকার মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সরকারের লক্ষ্য, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো এবং মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সম্প্রতি নবান্নে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বিধায়করাই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগসূত্র। তাই তাঁদের বক্তব্য ও এলাকার বাস্তব পরিস্থিতির কথা নিয়মিতভাবে শোনা অত্যন্ত জরুরি। শুধু বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন নয়, সারা বছর ধরে এই যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি দফতর সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করবে। সেই দিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। প্রয়োজনে দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন, যাতে আলোচনায় উঠে আসা সমস্যাগুলির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়। কোনও প্রকল্পের কাজ আটকে থাকলে বা কোনও সরকারি পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি মন্ত্রীর নজরে আনা যাবে। একই সঙ্গে পূর্বে উত্থাপিত সমস্যাগুলির সমাধান কতদূর এগিয়েছে, তাও পর্যালোচনা করা হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে বলেও মনে করছে প্রশাসন। বিভিন্ন জেলায় রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ, নগরোন্নয়ন কিংবা গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলি বিধায়কদের কাছে আসে, সেগুলি সরাসরি সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা যাবে। এতে সমস্যার সমাধানে সময় কম লাগবে এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতাও বাড়বে।