ওঙ্কার ডেস্কঃ ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনের খোলনলচে বদলেছে কমিশন। সেই কাজ এখনোও অব্যাহত। এবার কলকাতা পুলিশের ৩১টি থানার ওসিকে সরানোর ক্ষেত্রেও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিল নির্বাচন কমিশন। পর্ণশ্রী থানার ওসির দায়িত্বে কমিশন নিয়ে আসে টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে। তাতেই বিস্তর জল ঘোলা হয়। মুখ পুড়েছে কমিশনেরও।
সূত্রের খবর, রবিবার রাতে প্রকাশিত হওয়া বদলির তালিকায় তাঁর নাম ছিল ৬ নম্বরে। তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর কমিশনের অন্দরেই হইচই পড়ে যায়। আর জি কর কাণ্ডে টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চালাচ্ছে। সেখানে তাঁকে কীভাবে থানার ওসি হিসাবে নিযুক্ত করা হল, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনেই প্রশ্ন ওঠে।
সূত্রের খবর, এই বিষয় পরিস্কার হতেই নড়েচড়ে বসে কমিশন। রাতেই সিইও অন্যান্য আধিকারিকদের হোয়াটসঅ্যাপ করে জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে অভিজিৎ মণ্ডলের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি থানায় যোগ দেবেন না। পর্ণশ্রী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকই নিজের জায়গায় থেকে যাবেন।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, যে ইন্সপেক্টরদের নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন থানার ওসি হিসাবে দায়িত্ব দিয়েছে, তাঁদের একটি বড় অংশেরই সেভাবে থানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। নির্বাচন কমিশন কোনও হোমওয়ার্ক না করেই ইচ্ছামতো আধিকারিকদের রদবদল করছে বলেই অভিযোগ উঠছে।
এদিন বদল করা হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর, কালীঘাট থেকে শুরু করে মধ্য কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট, বউবাজার, মুচিপাড়া, উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, ভাঙড়, পোলেরহাট থানার ওসিকে। ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হলেন এসটিএফের ইন্সপেক্টর সৌমিত্র বসু। উৎপলকুমার ঘোষ হলেন কালীঘাট থানার নতুন ওসি। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার নতুন ওসি হয়েছেন শুভদীপ চক্রবর্তী।