ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হগ মার্কেটে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ঘটে যাওয়া ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক আবহে প্রকাশ্যে বুলডোজার ব্যবহার করে ভাঙচুর চালানো হলেও প্রশাসনের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
সম্প্রতি নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর শহরের বিভিন্ন অংশে বিজয় মিছিলের আবহে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সময় নিউ মার্কেট বা হগ মার্কেট এলাকায় একটি রাজনৈতিক মিছিল চলাকালীন বুলডোজার নিয়ে প্রবেশ করে একদল সমর্থক। অভিযোগ, ওই যন্ত্র ব্যবহার করে বাজার সংলগ্ন একাধিক অংশে ভাঙচুর চালানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দোকানপাট ও আশপাশের পরিকাঠামো। ব্যবসায়ীদের একাংশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহাসিক বাণিজ্যকেন্দ্রে এমন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা পুলিশ কমিশনারও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মিছিল বা অন্য কোনও কর্মসূচিতে বুলডোজারের মতো ভারী যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে যাঁরা এ ধরনের যন্ত্র সরবরাহ করেছেন বা ভাড়ায় দিয়েছেন, তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে, শুধু হগ মার্কেট নয়, নির্বাচন-পরবর্তী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনাগুলিরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আদালতের পর্যবেক্ষণে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা বিচার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি রোধে কঠোর নির্দেশ জারি করার আর্জি জানানো হয়েছে।