ওঙ্কার ডেস্ক: বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্তে প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। এবার তদন্তকারীদের নজরে এসেছে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একটি বিশেষ গোষ্ঠী, যাদের অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘স্পেশাল ৩০’ নামে ডাকা হতো। অভিযোগ, এই ৩০ জনের একটি নির্দিষ্ট দলকে সামনে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনা করা হতো। বর্তমানে এই গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচয়, ভূমিকা, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে বিশেষ তদন্তকারী দল।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, ‘স্পেশাল ৩০’-এর প্রত্যেক সদস্যের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল। কেউ নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের দায়িত্ব সামলাতেন, কেউ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন, আবার কেউ বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক বিষয় এবং কমিশন আদায়ের কাজ দেখতেন বলে অভিযোগ। বিধাননগর এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নির্মাণকাজ, টেন্ডার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় এই গোষ্ঠীর প্রভাব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই এই গোষ্ঠীর সদস্যদের মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সম্পত্তির নথি এবং পারস্পরিক যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। প্রয়োজনে একে একে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি, বেআইনি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র লুকিয়ে থাকতে পারে এই ‘স্পেশাল ৩০’-এর সদস্যদের কাছেই।
সূত্রের খবর, এই গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহকারী এবং স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন প্রকল্পে কোন সংস্থা কাজ করবে, কোথা থেকে সামগ্রী সরবরাহ হবে কিংবা কোন ঠিকাদার কাজের বরাত পাবে, সেই বিষয়গুলিতে তাঁদের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন এবং সেগুলির সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।