ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ২১০০ কোটি টাকার একাধিক শিল্প প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে। একইসঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গে গড়ে তোলার বিষয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে শিল্পের মানচিত্রে আরও শক্তিশালী জায়গায় নিয়ে যেতে সরকার একাধিক বড় বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্প সংস্থার সঙ্গে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। তাঁর দাবি, খুব শীঘ্রই প্রায় ২১০০ কোটি টাকার নতুন শিল্প প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রাজ্যের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে টাটা গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেশে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটছে। সেই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের অত্যাধুনিক শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। টাটা গোষ্ঠী যদি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলে, তাহলে তা শুধু বিনিয়োগের ক্ষেত্রেই নয়, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন, উন্নত পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিল্পপতিদের কাছে পশ্চিমবঙ্গকে একটি নির্ভরযোগ্য এবং বিনিয়োগবান্ধব রাজ্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
জমি অধিগ্রহণ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, কোনওভাবেই জোর করে জমি নেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হবে না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করেই, আলোচনার মাধ্যমে এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মতি নিয়ে শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগোবে সরকার। কৃষি ও শিল্প দুই ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।