ওঙ্কার ডেস্ক: আরও ধাক্কা খেল মমতাপন্থী তৃণমূল। কালীঘাটের আশ্রয় ছেড়ে এবার বেসুরো ঋতব্রত গোষ্ঠীতে নাম লেখালেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র শিবির বদল করায় কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে কালীঘাটে। কামারহাটির বিধায়ক জানিয়েছেন, আদি তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেবেন। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে মদনকে দেখা যায়। হাস্যমুখে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
বেসুরোদের শিবিরে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের মদন মিত্র বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।’ শিবির বদল করলেও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। তাঁর সংযোজন, ‘দীর্ঘ দিন তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।’
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর। দলে ভাঙন তৈরি হয়। ৫০ জনের বেশি বিধায়ককে নিয়ে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেন তৃণমূলেরই টিকিটে জিতে আসা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করলেও ঋতব্রত শিবির সেই সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে ঋতব্রতের নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধানসভায় জমা দেন। স্পিকার রথীন্দ্র বোসও সেই নামে সিলমোহর দেন। ফলে পাকাপাকি ভাবে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর একে একে আরও বহু জোড়াফুল শিবিরের বিধায়করা ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন। এই গোষ্ঠীই এখন নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে। যদিও মমতাপন্থী তৃণমূল ঋতব্রত শিবিরকে ‘বেইমান’ বলে একাধিকবার আক্রমণ করেছে।