কলকাতা: সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (SRFTI) রবিবারের অশান্তির ঘটনার তদন্তে এবার বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করল রাজ্য সরকার। নবান্নের তরফে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে থাকছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগরওয়াল।
স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, SRFTI-এর ঘটনায় পঞ্চসায়র থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সেই তিনটি এফআইআর-এর ভিত্তিতেই তদন্তের জন্য SIT গঠন করা হল। ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিতে হবে এই দলকে।
কে কে রয়েছেন SIT-এ? বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দলের মাথায় রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগরওয়াল। এছাড়াও রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি স্পর্শ নীলাঙ্গী, সিআইডির ডিএসপি পদমর্যাদার অফিসার কৌশিক ঘোষ এবং কলকাতা পুলিশের তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিক সলিল রায়, তুষারকান্তি ঘোষ ও হীরক দলপতি। প্রয়োজনে রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশ থেকে আরও আধিকারিক নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে এই দলকে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে SRFTI-এর প্রেক্ষাগৃহে সভার আয়োজন করেছিল RSS-এর শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই সকাল ১০টা থেকে সভা চলছিল। কিন্তু ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে আপত্তি তোলেন পড়ুয়াদের একাংশ। প্রেক্ষাগৃহের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তারা। কেন বেসরকারি সংগঠনকে ক্যাম্পাসে সভা করতে দেওয়া হল, তা নিয়ে রেজিস্ট্রারের কাছে জবাবদিহি চান পড়ুয়ারা। সেই থেকেই গোলমালের সূত্রপাত, যা পরে সংঘর্ষের আকার নেয়। পড়ুয়া ও শিক্ষকদের উপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে, পাল্টা মারধরের অভিযোগ তোলেন সংগঠনের সদস্যরাও।
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু দুই পক্ষের গন্ডগোলে যদি স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ে, তবে বুঝতে হবে আমরা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। কোনও বাঙালি ছাত্রছাত্রী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারতে পারে না। এই সংস্কৃতি আমরা বদলাব।”