ওঙ্কার ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর দীর্ধ দেড় দশকের তৃণমূল জমানার অবসান হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হার স্বীকার করেননি প্রথমে। বরং তিনি অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি আঁতাত করে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছে। নিজের পরাজয় না স্বীকার করায় রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে। যদিও তার ২ মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে নির্বাচনে পরাজয়ের কথা মেনে নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনিও তৃণমূল করেছেন বহু বছর। আগে কংগ্রেসও করেছেন। তবে আপনিও হেরেছেন। আপনার জন্য আমি প্রচারে গিয়েছিলাম। ওটা যদিও আমার দায়িত্ব ছিল। আপনি তৃণমূল সরকারের একাধিক দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, ছয় জেলার দায়িত্বে ছিলেন। হলদিয়া ও দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ আপনাদের হাতেই ছিল।’ তৃণমূলের যে বেসুরো নেতারা আলাদা হয়েছেন, তাঁদের প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘যারা আপনার সঙ্গে গেল তাঁরা সাধু হলে গেল। যারা গেল না, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই, আরও কতকিছু। মনে রাখবেন, সব ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া রয়েছে।’
শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তৃণমূল ভবনের ভাড়া নিয়ে সম্প্রতি যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা নিয়েও স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন মমতা। প্রতি মাসে চেকের মাধ্যমেই ভবনের যাবতীয় ভাড়া মেটানো হত বলে দাবি করেছেন তিনি। একাধিক বৈধ নথিও তিনি তুলে ধরেছেন জনসমক্ষে। তবে এদিন দলীয় কার্যালয়ের নতুন ঠিকানাও ঘোষণা করেছেন মমতা। তিনি জানিয়েছেন, কালীঘাটের ‘৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট’ অর্থাৎ যেটি তাঁর নিজস্ব বাসভবন সেটিকে তৃণমূলের মূল কার্যালয় হিসেবে এখন থেকে গণ্য করা হবে।