ওঙ্কার ডেস্ক: ২১ ডিসেম্বর রবিবার কলকাতার সায়েন্স সিটিতে সভা করেন আরএসএস সভাপতি মোহন ভগবত। তার ঠিক একদিন আগেই অর্থাৎ শনিবার বং সফরে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী। এদিন সভায় ভগবত বলেন, আরএসএস-এর উদ্দেশ্য কোনোদিন রাজনৈতিক নয়, বরং সর্বশান্তি বজায় রেখে হিন্দুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত কলকাতায় সাম্প্রতিক বক্তব্যে সংগঠনের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে চলমান নানা বিতর্কের জবাব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে বা আরএসএস কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এক করে দেখার প্রবণতা সম্পূর্ণ ভুল। তাঁর কথায়, আরএসএসের কাজ ও লক্ষ্যকে যদি শুধুমাত্র বিজেপির দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হয়, তবে তা সংগঠনটির প্রকৃত চরিত্রকে বিকৃত করে দেখা হবে।
ভাগবত বলেন, আরএসএস মূলত একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, যার প্রধান লক্ষ্য সমাজকে সংগঠিত করা, মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং জাতির নৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিকে জাগ্রত করা। এই সংগঠনের কাজ কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য নয়, কিংবা কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেও নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আরএসএসের নিজস্ব দর্শন ও কাজের ক্ষেত্র রয়েছে, যা রাজনীতির গণ্ডির বাইরে অবস্থান করে যা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মেল খায় না।
আরএসএস ও বিজেপির সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা করেন, অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে আরএসএসের অতীত যোগসূত্র থাকলেও তার অর্থ এই নয় যে সংগঠনটি কোনও রাজনৈতিক দলের শাখা বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাঁর মতে, ব্যক্তি ও সংগঠন এক বিষয় নয়। কেউ আরএসএসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পরে রাজনীতিতে গেলে, তা সংগঠনের রাজনৈতিক চরিত্র প্রমাণ করে না।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভাগবত আরও বলেন, আরএসএসকে ঘিরে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ তথ্য বা পূর্বধারণার উপর দাঁড়িয়ে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, শিক্ষা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। এসব কাজের লক্ষ্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি করা।
মোহন ভগবত আহ্বান জানান, আরএসএসকে রাজনৈতিক বিতর্কের ফ্রেমে না ফেলে তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা বোঝার চেষ্টা করতে। তাঁর মতে, সংগঠনটির উদ্দেশ্য দেশের সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, বিভাজন সৃষ্টি করা নয়। এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
