অয়ন চ্যাটার্জী,
ডিজিটাল যুগে দক্ষ সাংবাদিক গড়তে নিউ আলিপুর কলেজে বিশেষ কর্মশালা। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও পেশাদার বিশেষজ্ঞদের পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রকাশ করবে নিজস্ব সংবাদপত্র, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করবে।
স্মার্টফোনের স্ক্রিনে খবরের ঘনঘন ‘নোটিফিকেশন’ আর সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ব্রেকিং নিউজ’-এর ভিড়ে কী তবে হারিয়ে যাবে ছাপানো কাগজের মাহাত্ম্য ? উত্তরটা দিচ্ছে নিউ আলিপুর কলেজের জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন বিভাগ। আগামীর সংবাদমাধ্যম জগতের সৈনিকদের স্রেফ পুঁথিগত বিদ্যায় নয়, বরং পেশাদার জগতের কঠিন লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করতে কলেজে শুরু হয়েছে এক বিশেষ কর্মশালা। বিষয় – “ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্র নির্মাণ, অলঙ্করণ এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ”।
নিছক তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, এই কর্মশালার বিশেষত্ব হল হাতে-কলমে কাজ শেখানো। কলকাতা তথা জাতীয় স্তরের চারটি খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমের বিশেষজ্ঞরা এখানে প্রশিক্ষকের ভূমিকায়।

সাংবাদিকতার নতুন পাঠ্যক্রম (CCF) অনুযায়ী চার বছরের স্নাতক স্তরে ব্রডশিট এবং ট্যাবলয়েড নির্মাণ এখন পাঠ্যসূচির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে পড়ুয়াদের শিল্পক্ষেত্রের উপযোগী করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন বিভাগীয় প্রধান ড. অমর্ত্য সাহা।
সংবাদপত্রের প্রতিটি পাতায় কোন খবর কোথায় বসবে, ছবির মাপ কত হবে কিংবা শিরোনামের ওজন কতটা— এ সবই এক একটি শিল্প। বিশিষ্ট সাংবাদিক অনিন্দ্য সিংহ চৌধুরী পড়ুয়াদের শেখালেন ‘কোয়ার্ক এক্সপ্রেস’ (QuarkExpress)-এর খুঁটিনাটি। তাঁর হাত ধরেই ছাত্রছাত্রীরা চিনল কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা দৈনিকের মেজাজ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। ‘ইনডিজাইন’ (InDesign) সফটওয়্যারের প্রয়োগের বিষয়ে আলোকপাত করলেন কলকাতার আরেক বিশিষ্ট সাংবাদিক সায়ন কর্মকার। খবরের অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন হাউসের সম্পাদকীয় নীতি যে কীভাবে সংবাদপত্রের অবয়ব বদলে দেয়, তা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেন তিনি। স্থানীয় এবং জাতীয় সংবাদপত্রের পার্থক্য বোঝালেন সাংবাদিক সম্বুদ্ধ চক্রবর্তী। কর্মসংস্থানের বাজারে টিকে থাকতে গেলে যে স্রেফ ডিগ্রি নয়, বরং ‘এক্সপেরিয়েনশিয়াল লার্নিং’ বা অভিজ্ঞতামূলক শিক্ষাই আসল চাবিকাঠি, তা উঠে এল তাঁর আলোচনায়। ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠের সাংবাদিকতা বা ‘ফিল্ড রিপোর্টিং’-এর চ্যালেঞ্জ কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সৌমিত্র নন্দী।
কলেজের অধ্যক্ষ ড. জয়দীপ ষড়ঙ্গীর মতে, “পরিচয় নির্মাণ ও জনমত গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা আজও অপরিসীম। দ্রুত এবং স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছে দিতে খবরের কাগজের কোনো বিকল্প নেই।” বিভাগীয় প্রধান ড. অমর্ত্য সাহার মতে, “ডিজিটাল মাধ্যম অনেক সুযোগ এনে দিলেও গভীর বিশ্লেষণমূলক ও গুণমানসম্পন্ন সাংবাদিকতার মেরুদণ্ড আজও সংবাদপত্রই।”
কর্মশালার শেষে পড়ুয়ারা নিজেরাই তৈরি করবে নিজস্ব ব্রডশিট ও ট্যাবলয়েড। শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়াল পেরিয়ে এক টুকরো নিউজ রুমের স্বাদ মেলাই এখন এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
