ওঙ্কার ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ১৪ আগস্ট শিয়ালদহ স্টেশনে দেশভাগ স্মারক স্তম্ভের ভূমিপূজা হল। বিভাজনের সেই বিভীষিকায় দুর্ভোগের শিকার লক্ষ লক্ষ মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি মূর্তি স্থাপনের কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। সেই পরিকল্পনাকে সার্থক করতে শুক্রবার শিয়ালদহ স্টেশনে স্মারক স্তম্ভের ভূমি পূজায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
১৯৪৭ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ হিন্দু বাঙালি শরণার্থী শিয়ালদহ স্টেশনে এসেছিলেন। এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য অংশে আশ্রয়ও নিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের জীবনে বয়ে গেছে চরম দুর্ভোগ, নির্মম ভাবে হয়েছিলেন বাস্তুচ্যুত। নানা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। তাই তাঁদের উদ্দেশ্যে শিয়ালদহ স্টেশনে স্মৃতি স্তম্ভ স্থাপন করতে চলেছে কেন্দ্র। সেই উদ্দেশে শুক্রবার স্টেশন চত্তরে হল ভূমিপূজা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারা শুদু প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। কিন্তু পালাবদলের পর বর্তমান সরকার তাদের সংকল্প রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ পর্যন্ত স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলি বাঙালি হিন্দু শরণার্থীদের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। যদিও কিছু শরণার্থীকে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত বা রাজ্যের বাইরের বিভিন্ন শিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তবুও অনেকেই মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর এই স্টেশনেই কাটিয়েছিলেন। সেই মর্মান্তিক অতীতের প্রতি সচেতন রাখাই এই স্মৃতি স্তম্ভের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল।
নথিপত্র থেকে জানা যায়, ওই বছরগুলিতে যেকোনো সময়েই স্টেশনে কুড়ি হাজারেরও বেশি অসহায় ও বাস্তুচ্যুত মানুষ ঠাঁই নিয়েছিলেন। সেইসময় সরকার শিয়ালদহ স্টেশনকে শরণার্থীদের জন্য এক ধরণের অভ্যর্থনা কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করলেও, বাস্তবে স্টেশনটি শরণার্থীদের বস্তিতে পরিণত হয়েছিল।