ওঙ্কার ডেস্ক: সাভারকরকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশে চলা ফৌজদারি মামলায় বড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা ‘স্যানকশন’ নেওয়া হয়নি এই আইনি ত্রুটিকেই মামলাটি খারিজের প্রধান কারণ হিসেবে দেখেছে আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চ রাহুল গান্ধীর আবেদন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতের জারি করা সমন এবং সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি প্রক্রিয়াও বাতিল করে দেয়। মামলাটি মূলত ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এবং ৫০৫ ধারায় জনমনে বিভ্রান্তি বা অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের ভারত জোড়ো যাত্রার সময়। মহারাষ্ট্রের আকোলা জেলায় একটি সভা ও সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী সাভারকরকে ব্রিটিশদের সহযোগী বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, সাভারকার ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে পেনশন পেয়েছিলেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী নৃপেন্দ্র পাণ্ডে। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, রাহুলের বক্তব্য সমাজে বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উত্তরপ্রদেশের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাহুল গান্ধীকে অভিযুক্ত হিসেবে তলব করে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সেই সমন জারি করা হয়। রাহুল গান্ধী ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে হাই কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। শীর্ষ আদালত সেই সময় নিম্ন আদালতের প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিয়েছিল এবং ভবিষ্যতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নিয়ে অবমাননাকর বা বিতর্কিত মন্তব্য করার ক্ষেত্রে তাঁকে সতর্কও করেছিল।
এদিনের শুনানিতে মামলার মূল বিষয় হয়ে ওঠে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন। ১৫৩এ ধারার মতো নির্দিষ্ট অপরাধে আদালত কোনও অভিযোগ গ্রহণ করার আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার অধীনে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকারের হলফনামায় এই ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সেই অনুমোদন ছাড়া মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আইনসঙ্গত নয় বলেই সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয়।